অবশেষে বেজে উঠছে বিয়ের সানাই। দীর্ঘ অপেক্ষা ও একের পর এক বাধা পেরিয়ে ‘মিলন হবে কতদিনে’ ধারাবাহিকে সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছে গোরা ও এলা। শুরু হতে যাচ্ছে তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়। বিয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে পরিবার। সাজো সাজো রব সর্বত্র। কিন্তু এই খুশির মাঝেই ঘনিয়ে আসছে বিপদ। বিয়ের ঠিক আগেই হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় কনে। মুহূর্তেই এলোমেলো সব।

লাল বেনারসি, চোখ ধাঁধানো গয়না আর মাথায় মুকুট, পরিপাটি কনের সাজে সেজে উঠেছে এলা। আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত, তারপরই চার হাত এক হওয়ার কথা। কিন্তু সুখের এই মুহূর্তে অশুভ ছায়া হয়ে পিছু ছাড়ে না মৈনাক। বিয়ের ঠিক আগেই এলাকে অপহরণ করে সে। গোরার সঙ্গে তার মিলন রুখতেই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। গাড়ির ডিকিতে ভরে এলাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করে মৈনাক। আর সেই চক্রান্তে সে শেষ পর্যন্ত সফলও হয়। জ্ঞান ফিরতেই এলা বুঝতে পারে, সে আর পরিচিত কোনও জায়গায় নেই। চারপাশ সম্পূর্ণ অচেনা। কোথায় আনা হয়েছে, কিছুই ঠাহর করতে পারে না সে। আর অন্য দিকে, হবু স্ত্রীর আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার খবর কানে যেতেই গোরার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বদলে যায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায়।

সম্প্রতি গল্পে দেখা গিয়েছে, মিথ্যা ড্রাগসের মামলায় গোরাকে ফাঁসিয়েছে তার নিজেরই জামাইবাবু মৈনাক। সেই চরম বিপদের মুহূর্তে গোরার ঢাল হয়ে দাঁড়ায় এলা। সকলের সামনে নায়িকা স্পষ্ট করে জানায়, গোরা কোনও অপরাধ করেনি, আর যে অপরাধ করেনি, তার শাস্তি ভোগ করার প্রশ্নই ওঠে না। এরপরই সে পুলিশকে জানায় যে, পরিমল নামে এক কর্মচারী গোরার গাড়িতে মাদক রেখেছিল। এই কথা শুনে নেশার ঘোরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গোরা। পরিমলের জামার কলার চেপে ধরে জানতে চায়, কে তাকে এই কাজ করতে বলেছে। মুখে কিছু না বললেও পরিমলের চোখ গিয়ে পড়ে মৈনাকের দিকে। মুখোশ খুলে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতেই গোরা ও এলার জীবনে নতুন সঙ্কট ডেকে এনেছে মৈনাক। একের পর এক চক্রান্তে ভেঙে দিতে চায় তাদের সুখের স্বপ্ন। এই ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে কি হবু স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারবে গোরা? সেই উত্তর জানতেই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা দর্শকের।