বাফটার মঞ্চে হইচই ফেলে দিয়েছে ফারহান আখতারের ছবি ‘বুং’। মণিপুরের পটভূমিতে নির্মিত এ ছবির অন্যতম প্রযোজক ফারহান। ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল ২০২৪ সালের টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এর ডিসকভারি বিভাগে। বাফটা-র (BAFTA) মঞ্চে শিশু ও পারিবারিক ছবির বিভাগের সেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন ফরহান এবং পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। দু’জনেই তাঁদের হাতে তুলে নেন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
ছবির গল্প এক ছোট্ট ছেলেকে ঘিরে। মণিপুরের এক উপত্যকার বাসিন্দা বুং, যে তার মা-কে চমকে দিতে চায় বিশেষ এক উপহার দিয়ে। তার শিশুসুলভ বিশ্বাস, বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনাই হবে সবচেয়ে বড় উপহার। সেই বাবার খোঁজে বেরিয়ে পড়া যাত্রাই তাকে পৌঁছে দেয় এক অপ্রত্যাশিত আবিষ্কারের দিকে, যা শেষমেশ হয়ে ওঠে নতুন শুরুর গল্প।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যে শুভেচ্ছা জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “২০২৬ সালের বাফটা-য় ‘বুং’-এর জয় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।” প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই ছবির সেরা শিশু ও পারিবারিক ছবির সম্মান পাওয়া গোটা দেশের গর্বের মুহূর্ত বলেই মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “প্রথমবার কোনও ভারতীয় ছবি এই বিভাগে পুরস্কার জয় করেছে। গোটা টিমকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। বিশ্বের মঞ্চে আপনারা দেশকে গর্বিত করেছেন।”

অন্যদিকে, ছবিটি নিয়ে সরব হয়েছেন পরিচালক শেখর কাপুর-ও। তাঁর মতে, ‘বুং’ বাফটার মূল বিভাগে পুরস্কার পাওয়া ছবিগুলির চেয়েও শক্তিশালী ছিল। তবে ভারতীয় সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় গভীরভাবে প্রোথিত হওয়ায় পশ্চিমা দর্শকরা এ ছবির সূক্ষ্মতা পুরোপুরি ধরতে পারেননি বলেই মনে করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখর কাপুর।
&t=313s
