'সারেগামাপা' রিয়েলিটি শোয়ের হাত ধরে উত্থান তাঁর। অল্প সময়েই তাঁর গলার জাদুতে বিচারক থেকে দর্শকদের মন কেড়ে নেন। কিন্তু এ হেন গায়কের এই পরিণতি হতে পারে কেউ বোধহয় কল্পনাও করেনি। রিয়েলিটি শো শেষ করে বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার পর থেকে মইনুল আহসান নোবেল যতবার খবরের শিরোনামে এসেছেন, প্রতিবারই এসেছেন কোনও অপকর্ম বা জেল যাওয়ার কারণে। সম্প্রতি তিনি আবারও গ্রেফতার হন ধর্ষণ কাণ্ডে। আদালত থেকে জামিন পেয়েই ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন। 

এদিন আদালত থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মইনুল আহসান নোবেল। তিনি অকপটে বলেন, ''মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমার হইসে, আবারও হইতে পারে।'' শুধু তাই নয়, তিনি এও বলেন, "আমার সব দর্শক শ্রোতারা আমায় খুব ভাল করে বোঝে। আমায় ঠিক ক্ষমা করে দেবে। তাদেরকে নতুন করে বলার কিছু নেই। জানে আমি হালকা পাগলা পাগলা মানুষ। ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দেবে।" জামিন পেয়েই জানান তাঁর ভাল লাগছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেন। বলেন, "আল্লাহতালা আমায় আজ ছেড়ে দিল এখান থেকে। খোদা অনেক মেহেরবান।" বলেই 'তুমি বড় মেহেরবান' গানটির দুই কলি গেয়ে শোনান। 

আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই নোবেল জানান এখন এই ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে তিনি কিছু ভাবতে চান না। সামনেই তাঁর নতুন অ্যালবাম আসছে। আপাতত তিনি সেটাতেই মন দিতে চান। 

এদিন কোর্টের বাইরে তাঁর জন্য তাঁর পঞ্চম হবু স্ত্রী অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর সঙ্গেই হেঁটে যান। যাওয়ার সময় পঞ্চম স্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন গায়ক। বলেন, "তোমাদের সবার বউগুলোরে আমায় বাসায় দিয়ে যেও। সবার সাথে সংসার করব।" নোবেলের এই মন্তব্য বর্তমানে ভাইরাল। তাঁর এই কথা শুনে একদিকে যেমন কিছু নেটিজেন হাসছেন, তেমন কিছুজন বেজায় বিরত। 

নোবেলের পরনে এদিন কালো পোশাক ছিল। চুল লম্বা, উশকো, খুশকো। ভ্রু কাটা।

কী অভিযোগ গায়কের বিরুদ্ধে? বিয়ের কথা দিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে যৌন হেনস্থা ও তাঁর আপত্তিকর ছবি, ভিডিওর তৈরির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নোবেলকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে নোবেলকে আটক করা হয়। আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। মামলার সূত্রপাত গত বছরের ১৩ আগস্ট দায়ের হওয়া এক তরুণীর লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারিণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নোবেলের স্টুডিওতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-কে। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী অফিসার আদালতে রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্টের ভিত্তিতেই নোবেলসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।