সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে স্বামী প্রবাহ এবং শ্বশুর বাড়ির নামে অভিযোগ করে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শো করে ফেরার পথে একসঙ্গে একগাদা ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে বিপদ এড়ানো যায়। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। জানা গিয়েছে, বিপদ টলেছে। তবে মানসিক ভাবে এখনও দুর্বল তিনি। এদিন বিধায়ক মদন মিত্র গায়িকাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। 

দেবলীনা নন্দীকে দেখে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মদন মিত্র। জানান গায়িকা কেমন আছেন। এদিন তৃণমূল নেতা দেবলীনার স্বাস্থ্যের আপডেট দিয়ে বলেন, "ভাল আছে মোটামুটি। ডাক্তার অতনু পালের সঙ্গে কথা বললাম। উনি মূলত মানসিক চাপ নিতে বারণ করলেন। খুব বেশি মোবাইল দেখতে বারণ করলেন। কারণ তাতে মানসিক বাড়বে। স্টেজে নেমে গান যে গাইবে, ফিজিক্যাল ফিটনেসের বিষয় যেটা, সেটা হয়তো মনের জোরে করে দিতে পারবে। কিন্তু মেন্টাল ডিপ্রেশন যেটা, সেটা ততক্ষণ কমবে না, যতক্ষণ না ফোন থেকে দূরে থাকছে। এমনই নইলে ঠিকই আছে। ট্রমা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।" তিনি এদিন আরও বলেন, "যেটা ঘটেছে সেটা অপ্রত্যাশিত। ওর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।" 

গায়িকা এমনকী তাঁর মা-ও শ্বশুর বাড়ির নামে অভিযোগ তুলেছেন। দেবলীনা জানিয়েছেন তাঁর স্বামী প্রবাহ এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলেছিলেন হয় তাঁর মাকে বেছে নিতে নইলে সংসার। মাক ছাড়তে চাননি তিনি। আবার স্বামীকেও ভালবাসেন, সংসার করতে চান। দুইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না পেরে এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। গায়িকার মা জানান, তাঁকে নাকি কুৎসিত দেখতে বলা হতো। এমনকী এও দাবি করেন, সামাজিক বিয়ে হলেও দেবলীনা এবং প্রবাহর নাকি রেজিস্ট্রি হয়নি। যদিও সমাজমাধ্যমে তাঁদের আইনি বিয়ের ছবি বর্তমানে ভাইরাল। মদন মিত্রের কাছে শ্বশুর বাড়ির নামে কোনও কিছু জানিয়েছেন কিনা দেবলীনা বা তাঁর পরিবার জানতে চাইলে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, "এসব জিজ্ঞাসা করিনি। বাড়ির, ব্যক্তিগত কোনও ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি। ওঁরাও কিছু বলেননি। চিকিৎসার ব্যাপারে কথা হয়েছে। বলেছি দ্রুত সুস্থ হয়ে আগে আমার কামারহাটিতে একটা ভাল প্রোগ্রাম করতে। গানে থাকলে সব ডিপ্রেশন কেটে যাবে।" 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, একদিকে নেটিজেনরা যেমন চাইছেন দেবলীনা সুস্থ হয়ে উঠুন, তেমনই তাঁর দিদি যে দাবি করেছেন তিনি ৭৮টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সেটা অবাস্তব বলে দাবি করছেন। চলছে কটাক্ষ। সমাজমাধ্যমে চলতে থাকা এই ট্রোল প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, "কিছু যদি ট্রোলিংয়ের লোকজন না থাকত, কিছু যদি বিদঘুটে, অসভ্যতা করার লোকজন না থাকত, এত বড় পৃথিবী, এতগুলো জঙ্গল কিছু জন্তু থাকবে না? এতে কিছু এসে যায় না। আমাকে নিয়ে করলে আমি খুব খুশি হই। এতে আমার টিআরপি বেড়ে যায়।" তাঁর দাবি, "আমি তো ট্রোলিংয়ের উপরেই দাঁড়িয়ে আছি। মদন মিত্র ইজ এ সাব্জেক্ট অফ ট্রোলিং।"