বলিউডে কি ফুরিয়ে যাচ্ছে সাহসী গল্প বলার দিন? প্রশ্নটা নতুন নয়, কিন্তু ফের সামনে এনে দিলেন পরিচালক কুণাল কোহলি। তাঁরই পরিচালনায় তৈরি 'ফনাহ' —যে ছবি চলতি বছরে পা দিচ্ছে ২০ বছরে। আজও যেন সেই ছবি সাহসের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে আমির খান ও কাজলের অনবদ্য জুটি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ‘ফনাহ’-র আসল শক্তি ছিল তার গল্পে। এক রোম্যান্টিক প্রেমের গল্প যার কেন্দ্রে থাকা পুরুষটি আদতে নায়ক নয়, এক সন্ত্রাসবাদী। আর সেই প্রেমের শেষ পরিণতি? মুক্তি নয়, মৃত্যু। প্রেমিকার হাতেই শেষ হয় নায়কের জীবন। বলিউডের মূলধারায় এমন নির্মম, অস্বস্তিকর পরিণতি। আজ কল্পনাতেই আনা কঠিন।

কুণাল কোহলির কথায়, “আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে এই সাহসটাই নেই। নায়ককে নিখুঁত না দেখিয়ে, ধূসর চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউ।” তাঁর মতে, এখনকার ছবিগুলো অনেকটাই ‘সেফ জোন’-এ বন্দি, যেখানে পরীক্ষিত ফর্মুলা, পরিচিত আবেগ আর নিশ্চিত ব্যবসাই শেষ কথা।

তবে ‘ফনাহ’-র যাত্রাও ছিল কম নাটকীয় নয়। শুরুতে এই ছবির জন্য আমির খান-কে নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। তাঁর আশঙ্কা ছিল—সময় নষ্ট হতে পারে, প্রজেক্ট এগোবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। কুণাল বললেন, “আমিরকে এই ছবিতে চাই শুনে আদিত্য আমাকে বললেন, “বাহ্ রে বাহ্! একটা ছবি হিট করিয়ে ফেলেছিস এবার তোর আমির খানকে চাই? আরে ভাই, আমিরকে ছাড়। ও ফালতু টাইম পাস করবে। সব শুনেটুনে ৬ মাস ধরে তোকে নিজের কোলে বসবে তারপর না করে দেবে। তোর ফালতু সময় নষ্ট হবে। ঠিক আছে তোর যদি সময় নষ্ট করতে ভাল লাগে, সেটাই কর। আমার কী!’’ 


কিন্তু সেই সংশয় কাটিয়েই এগিয়ে আসে প্রস্তাব। আর গল্প শুনেই ছবির প্রেমে পড়ে যান আমির। এমনকী সংলাপের আবেগ ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে চিত্রনাট্য উর্দুতে লেখার পরামর্শও দেন তিনি। ঠিক তাই করেছিলেন কুণাল। এক সপ্তাহের মধ্যে লিখে ফেলেছিলেন। যদিও এক সপ্তাহের বদলে দু'সপ্তাহ পর আমিরের কাছে সেই চিত্রনাট্য নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, যাতে আমির মনে করেন সময় নিয়ে ওটা লিখেছেন কুণাল। যাই হোক, পড়ে খুব ভাল লাগে আমিরের। এতটাই যে তিনি আদিত্য চোপড়াকে বলেছিলেন, “এত ভাল চিত্রনাট্য,এত ভাল একটা গল্প। তুমি নিজে কেন এই ছবিটা পরিচালনা করছ না?” আদিত্য চোপড়ার জবাব ছিল, “কারণ আমি জানি, কুণাল-ই সবথেকে সঠিক মানুষ এই ছবি পরিচালনা করার জন্য!”

মুক্তির পর ‘ফনাহ’ শুধু বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, তৈরি করেছিল আলাদা জায়গা। ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে পড়া এই ছবি প্রমাণ করেছিল দর্শক সাহসী গল্প গ্রহণ করতে জানে, যদি তা সৎভাবে বলা হয়। তবু দু'দশক পরে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা থেকেই যায়, তাহলে আজ কেন এমন ছবি আর তৈরি হয় না? দর্শক বদলেছে, না কি নির্মাতাদের মানসিকতাই সঙ্কুচিত হয়েছে?

‘ফনাহ’ আজও মনে করিয়ে দেয়, সিনেমা শুধু বিনোদন নয়—এটা সাহসেরও জায়গা। যেখানে নায়ক সবসময় সাদা-কালো নয়, অনেক সময় ধূসর। আর সেই ধূসরতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় সত্যি।