-আমি তো বলব যে যেখানে খুশি চুমু খেতে পারেন...
- চুমু অত্যন্ত সুন্দর জিনিস, অত্যন্ত পবিত্র
-দীর্ঘজীবী হোক চুমু!

 

চারিদিকে প্রেমের গন্ধ। শহর জুড়ে ভালবাসার মরশুম। প্রেম কি এক দিনের? স্রেফ এক সপ্তাহের জন্যেই এর উদ্‌যাপন? তর্ক থাকুক। তবু বিক্ষোভ, ঝগড়ায় উঁকি মারা দুনিয়ায় একদিনের জন্য হলেও একমুঠো ভালবাসা উদ্‌যাপন বর্তমানে প্রায় উৎসবের আকার ধারণ করে। আর দুরন্ত প্রেমে পড়লে বাঙালি আজও তাঁর গানের পংক্তি নির্দ্বিধায় ভালবাসার মানুষের উদ্দেশ্যে জোরে অথবা অস্ফুটে কিংবা গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন তাঁর গাওয়া গান। তিনি, কবীর সুমন। প্রেমের সপ্তাহে চুমু দিবসে সেই ‘নাগরিক কবিয়াল’-এর কাছে হাজির আজকাল ডট ইন। আর বাঙালি মাত্রেই জানেন কবীর সুমনের কথার মধ্যে একইসঙ্গে যমজ ভ্রুণের মতো থাকে তর্ক এবং ভাললাগা। সুমনোচিত কথালাপের যে রঙিন টুকরো টুকরো মন্তাজ পেশ করা হল, তাঁর সাক্ষী রইলেন রাহুল মজুমদার।


প্রথমেই বলে “ভালবাসা তো ভালবাসা-ই। ভালবাসা ব্যাপারটা যত রকম ভাবে উদ্‌যাপন করা যায়, ততই ভাল।” একথা সেকথার ফাঁকে প্রশ্ন ছিল, মধ্যে সত্তরের চৌকাঠ পেড়িয়ে কবীর সুমনের কাছে এখন চুমু শব্দটির ঠিক কী অনুভব? প্রশ্ন শুনে থামলেন খানিক, তারপর পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ‘জাতিস্মর’, “চুমু খাওয়াটা তো চিরকাল ছিল, এখনও আছে। একজন মানুষ যদি আরেকজনকে চুমু খায়, কেন তা আলোচনার বিষয় হবে? অন্যজনের তাতে সমস্যা হবে? কেন অন্য লোকজন তাতে নীতিপুলিশগিরি করবে?” প্রশ্ন তুলে খানিক থামলেন নাগরিক কবিয়াল। প্রসঙ্গ ওঠে, ভারতের বেশিরভাগ বিজেপি অধ্যুষিত রাজ্যে ‘বজরং দল’-এর। ওই দলের নাম নিয়ে যে বর্বররা প্রকাশ্যে প্রেমিক-প্রেমিকাকে ঘনিষ্ঠভাবে বসতে দেখলে, চুম্বনরত অবস্থায় দেখলে তাঁদের প্রকাশ্যে হেনস্থা করে, হাল্লা পাকিয়ে, কটূক্তি সহযোগে এক বীভৎস ভয়ের পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?  


যখন কবীর সুমন কোনও বিষয়ে নিজের মতামত দেন অথবা মন্তব্য করেন, প্রতিটি শব্দের প্রতি নিজে সৎ থাকেন। তাই তো অবিচল স্বরে তিনি বলতে পারেন, “এটা হাস্যকর এবং গুণ্ডামি। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে ভালবাসে, চুমু খাচ্ছে তাতে কার কী? কী আশ্চর্য!  এটা তো অন্যায়!" আরও বললেন, “কী আশ্চর্য! প্রকাশ্যে চুমু খাচ্ছেন দু’জন -এটা তো ভীষণ সুন্দর একটা ব্যাপার। এর থেকে সুন্দর দৃশ্য আর কিছু হতে পারে কি? আপনিই বলুন না! এটা দেখে রেগে যাওয়ারই বা কী আছে বা গোলমাল পাকানোরই বা কী আছে, সেটাই তো বুঝি না... বলতে বলতে উদাত্ত গলায় হেসে ওঠেন ‘তোমাকে চাই’-এর স্রষ্টা। 


এতক্ষণে আভাস পাওয়া গেল সেই বিখ্যাত সুমনোচিত মেজাজের - “দেখুন, প্রকাশ্যে হোক বা আড়ালে চুমু তো ভীষণ সুন্দর। আবার বলছি ভীষণ সুন্দর, অনেক বয়স্করা যাঁরা চোখরাঙানি দেন, নয়া প্রজন্মকে চুমু খেতে দেখে গেল-গেল রব তোলেন আমি তাঁদের কিছুতেই সঙ্গ দিতে পারব না! কোনওভাবেই তাঁদের সঙ্গে আমি একমত নই! কারণ ওটা তো পাগলামো এবং গুণ্ডামির একটা মিশ্রণ। তাই আমি ওইসব মত মেনে নেওয়া বুড়োদের দলে ভিড়তে পারব না কিছুতেই। আজকের এই দুর্দিনে, রাস্তায় দু’টি মানুষ পরস্পরের গাঢ় চুম্বনে ডুবে রয়েছেন, তা দেখতেও তো ভাল লাগে। আর কারও কথা বলতে পারব না, আমার তো দেখতে ভাল-ই লাগে। আমি তো বলব যে যেখানে খুশি চুমু খেতে পারেন...তাই যেখানে খুশি চুমু হোক, আবার বলছি যেখানে খুশি হোক…আমি চুমুর পক্ষে!” 


“চুমু তো চিরকালের। আমার একটা গান আছে, ‘ট্রাফিক থামিয়ে চুমুর স্বাধীনতা’ এই যে, এই যে আনন্দটা...আমি একজনকে ভালবাসি, সে আমাকে ভালবাসে...তখন সেই চুমুটাই সেই ভালবাসার নিশান হয়ে উঠছে। একটা রুক্ষ, কুৎসিত সময়ে যেখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না সেইরকম একটা সময়ে ভালবাসার এই নিশানের চেয়ে পবিত্র আর কী হতে পারে? চুমু অত্যন্ত সুন্দর জিনিস, অত্যন্ত পবিত্র। তাই দীর্ঘজীবী হোক চুমু! 

 

&t=313s


আর একটা কথা, তথাকথিত যেসব লোকজন বয়সের দোহাই দিয়ে চুমু নিয়ে পাকামি করেন, চোখ রাঙায় চুমু খেতে দেখলে তাঁদের বলব – এই, আপনারাও চেষ্টা করুন চুমু খেতে। খেয়েই দেখুন না! তবে হ্যাঁ, তাঁরা যদি সুযোগ না পান, সেটা তাঁদের দুর্ভাগ্য। তাতে আমার কিচ্ছু করার নেই!”