যশ রাজ ফিল্মসের বহুল প্রতীক্ষিত স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার আলফা এখন বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রকল্প। ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তির লক্ষ্যে এগোচ্ছে ছবিটি। এই সিনেমাই প্রথম, যেখানে তথাকথিত ‘স্পাই ইউনিভার্স’-এ কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকছেন দুই নারী এজেন্ট।ছবিতে সুপার-এজেন্টের চরিত্রে দেখা যাবে আলিয়া ভাটt এবং শর্বরী ওয়াঘ-কে। অন্যদিকে তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষের ভূমিকায় রয়েছেন ববি দেওল। ছবি পরিচালনায় শিব রাওয়াল। আলফা-রশুটিং এখন শেষ পর্যায়ে। কিন্তু ছবি মুক্তির আগে হঠাৎই সামনে এসেছে অস্বস্তিকর খবর। না কি গুঞ্জন?
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, ‘অ্যানিম্যাল' ছবিতে রণবীর কাপুরের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠলেও 'আলফা' ছবির শুটিংয়ে রণবীরের স্ত্রী আলিয়ার সঙ্গে নাকি তেমন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি ববি-র। আর শুটিং চলাকালীনও নাকি পড়েছে সেই আঁচ। ছবির শেষ পর্যায়ের শুটিং চলাকালীন নাকি আলিয়া ভাট ও ববি দেওলের মধ্যে সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের হয়ে ওঠে।এক সূত্রের মতে, ‘অ্যানিম্যাল' ছবির সময় রণবীরের সঙ্গে ববির যে বন্ধুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আলফা-র সেটে আলিয়ার সঙ্গে তাঁর সেই স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি-ই হয়নি।
বলিপাড়ায় ফিসফাস, ছবির শুটিংয়ের সময় আলিয়ার অভ্যাসমতো নানা সৃজনশীল মতামত দেওয়াকে কেন্দ্র করেই নাকি সমস্যা শুরু হয়। এমনকি ববির দৃশ্য নিয়েও অভিনেত্রী পরামর্শ দিচ্ছিলেন বলে খবর! সূত্রের দাবি, এক সময় বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান ববি দেওল। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শুটিং নির্বিঘ্নে শেষ করতে হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ প্রযোজক আদিত্য চোপড়া-কে।ছবিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অনিল কাপুর। সব বিতর্কের মাঝেও নির্মাতারা জানাচ্ছেন, শুটিং শেষের পথে এবং নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এ মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি।অবশ্য সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না জানান, কাপুর অ্যান্ড সন্স সেটে আলিয়ার আচরণ তাঁকে আলাদা করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। তাঁর কথায়, “ও ভীষণ মনোযোগী। আমি যেটা লক্ষ্য করেছি, ও প্রায় সবসময় মনিটরের সামনে থাকত। নিজের শটের সময় নয়, অন্যরা অভিনয় করলেও মন দিয়ে দেখত। খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করত।”বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর মতে, অনেক তরুণী অভিনেত্রী সেটে ‘কিউট’ ইমেজ ধরে রাখার একটা অদৃশ্য চাপ অনুভব করেন। সবসময় প্রাণবন্ত, মিষ্টি উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু সেই প্রবণতা অভিনয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রত্নার স্পষ্ট মন্তব্য, “ শুটিংয়ে আলিয়া খুব বেশি কথা বলত না। আজকাল অনেকেই ভাবে সেটে ‘কিউট’ থাকলেই সুবিধা হবে। কিন্তু তা অনেক সময় অভিনয়কে দুর্বল করে দেয়। আলিয়ার ক্ষেত্রে সেটা দেখিনি।”
&t=313s
তিনি আরও জানান, দু’জনের একসঙ্গে কোনও দৃশ্য না থাকায় তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা খুব বেশি হয়নি। তবু দূর থেকে আলিয়ার কাজের প্রতি একাগ্রতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। “আমি ভীষণ ইমপ্রেসড হয়েছিলাম। ও চুপচাপ নিজের কাজ করত। খুব বেশি কথা হয়নি আমাদের। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, ও অসাধারণ প্রতিভাবান এবং লক্ষ্যভেদী। আমি ওকে পছন্দ করেছি,” বলেন রত্না পাঠক শাহ।তারকার ঝলকানি, প্রচার আর সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহলের বাইরে রত্নার কথায় উঠে এল এক অন্য আলিয়া ভাট। যে আলিয়া আলোচনায় নয়, কাজে বিশ্বাসী; যে ‘কিউট’ হওয়ার চেয়ে অভিনেত্রী হওয়ার দায়িত্বটাই বেশি গুরুত্ব দেয়। আর সেই পেশাদার মনোভাবই হয়তো তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে সমসাময়িকদের ভিড় থেকে।
