গায়ক-চলচ্চিত্র নির্মাতা পলাশ মুচ্ছলকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও এক ধাপ এগোল। কয়েক দিন আগেই অভিনেতা-প্রযোজক বিদনয়ন মানে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তোলার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। শুধু তাই নয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে পলাশের ভেস্তে যাওয়া বিয়ে নিয়েও প্রকাশ্যে একাধিক মন্তব্য করেন বিদনয়ন। সেই প্রেক্ষিতেই মানহানির মামলা দায়ের করেন পলাশ। এবার এই মামলায় ইন্টেরিম রিলিফ পেলেন তিনি।
সাম্প্রতিক নির্দেশে বম্বে হাই কোর্ট বিদনয়নের বিরুদ্ধে একটি অর্ডার জারি করেছে। পলাশের আইনজীবী শ্রেয়াংশ আর মিথারে জানিয়েছেন, আদালত বিদনয়নকে পলাশ সম্পর্কে কোনওরকম মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ তাতে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে। আইনজীবীর মতে, এই নির্দেশ তাঁদের মামলার পক্ষে ইতিবাচক পদক্ষেপ। আগামী ১১ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদনয়ন দাবি করেন যে, পলাশ তাঁর কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। এমনকি স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কের সময় পলাশের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও তোলেন তিনি। জানা যায়, মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন বিদনয়ন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পলাশের প্রযোজিত হতে যাওয়া ‘নজরিয়া’ ছবির সহ-প্রযোজক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ছবির কাজে ৪০ লক্ষ টাকা দেন বিদনয়ন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ছবির কাজ শেষ না হওয়ায় টাকা ফেরতের অনুরোধ জানিয়েও কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ করেন।
এখানেই থেমে থাকেননি বিদনয়ন। তিনি আরও দাবি করেন, স্মৃতির সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন পলাশ নাকি অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং সে কারণেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য তাঁকে মারধর করেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই পলাশ সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন। বিদনয়নের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একটি আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সুনাম ও ব্যক্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মুহূর্তে দুই পক্ষই আইনি লড়াইয়ে অটল। আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর সকলের।
স্মৃতির বন্ধুর সঙ্গে আইনি লড়াই! সাময়িক স্বস্তি পলাশের, কী রায় দিল আদালত
