অবশেষে মুক্তি পেয়েছে বছরের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি 'কান্তারা: আ লেজেন্ড – চ্যাপ্টার ওয়ান'। দর্শকদের মনে জমে থাকা কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে ছবিটি বড়পর্দায় হাজির হয়েছে। মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া 'কান্তারা'র প্রথম ভাগ ছিল এক নিঃশব্দ ঝড়—ছোট বাজেটের ছবি হয়েও অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছিল বক্স অফিসে। চমকে গিয়েছিল ছবি সমালোচকের দল। সেই ছবির প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৯০ সাল, কিন্তু এই ছবি অর্থাৎ 'কান্তারা: চ্যাপ্টার ওয়ান' –এর গল্প দর্শককে টেনে নিয়ে গিয়েছে একেবারে হাজার বছরেরও বেশি পেছনে। অর্থাৎ 'কান্তারা'র প্রথম ছবির আগে কী ঘটেছিল, সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে নতুন অধ্যায়।

 

প্রথম ছবিতে ঋষভ শেঠি, সপ্তমী গৌড়া, কিশোর ও অচ্যুত কুমারের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। গল্পে ছিল কর্ণাটকের জঙ্গলের এক সাধারণ যুবকের কাহিনি, যে পাঞ্জুরলি—গ্রামের রক্ষাকর্তা দেবতার ভক্তির জোরে এক লোভী, নিষ্ঠুর জমিদারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। জমিদারকে ঘিরে গ্রামবাসীর বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে দিয়েই তৈরি হয়েছিল এক অগ্নিগর্ভ মহাকাব্য।

 

ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি 'কান্তারা: আ লেজেন্ড– চ্যাপ্টার ১'–এও মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋষভ শেঠির পাশাপাশি রুক্মিণী বসন্ত, গুলশন দেবাইয়া ও জয়ারাম। এখানে গল্প ঘুরে গেছে দেবভক্তি, পূর্বপুরুষের দ্বন্দ্ব আর মিথের জন্মকথায়। একেবারে গোড়ার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছে এই অধ্যায়। এককথায় কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এই দেবভক্তি এবং দেবতার আশীর্বাদ পাওয়ার বিষয়টি।

 

তবে ছবির শেষে রয়েছে আরও এক চমক— আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে গেল 'কান্তারা' ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী কিস্তি, 'কান্তারা: আ‌ লেজেন্ড– চ্যাপ্টার টু'। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটিও হবে প্রথম ছবির প্রিক্যুয়েল। তবে কাহিনি এগোবে 'চ্যাপ্টার ওয়ান'–এর পর, আর সেই গল্পের স্রোত বেয়ে পৌঁছবে ১৯৯০-এর 'কান্তারা'র পটভূমিতে! 

 

এই ছবি পরিচালনায় রয়েছেন ঋষভ শেঠি, প্রযোজনায় হোমবালে ফিল্মস—তাঁরা এবার নিশ্চিত করলেন, 'কান্তারা' আর পাঁচটা ছবির মত নয়, এটি এক পূর্ণাঙ্গ সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স। তাই বলাই বাহুল্য, সামনে অপেক্ষা করছে আরও নতুন স্তরের উন্মোচন—ভক্তি, ভাগ্য আর লোককথার অজানা গহ্বর।

 

 এক কথায়, 'কান্তারা' এখন এক মহাকাব্যিক যাত্রা। দর্শকদের অপেক্ষা আরও তীব্র হল, কারণ 'কান্তারা'র অলৌকিক গল্পের রহস্য কেবল শুরু হয়েছে মাত্র!