সংবাদ সংস্থা মুম্বই : নব্বই ছুঁইছুঁই বয়সে বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা আজও অক্ষুণ্ণ। তবে বলি-তারকা হিসাবে মধ্যগগনে থাকাকালীন তাঁর রূপে মুগ্ধ হননি এমন হিন্দি ছবিপ্রেমী নারী দর্শক বিরল। জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেও ধর্মেন্দ্রর হাসিখুশি স্বভাব ছিল তাঁর জনপ্রিয়তার আরও একটি প্রধান কারণ। তবে জানেন কি, সেই সময়ে ‘শোলে’ ছবির এই অভিনেতাকে একবার ঠাটিয়ে চড় মেরেছিলেন কাজলের মা তথা অভিনেত্রী তনুজা! এবং তা কিন্তু মোটেও মজা করে নয়।

এক সাক্ষাৎকারে নিজেই একথা ফাঁস করেছিলেন তনুজা। অভিনেত্রীর কথায় জানা যায়, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে তখন তাঁর বন্ধুত্ব বেশ জমে উঠেছে। পরিচালক দুলাল গুহের 'চাঁদ অউর সূরজ' ছবির শুটিং করছিলেন তাঁরা একসঙ্গে। সেই সময় ধর্মেন্দ্রর মদ্যপানের প্রধান সঙ্গীও ছিলেন তনুজা। এরকমই একদিন শুটিংয়ের পর মদ্যপান করতে করতে তনুজা বুঝতে পারেন তাঁর সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চেষ্টা করছেন ধর্মেন্দ্র। তনুজার কথায়, “হঠাৎ দেখলাম ‘ফ্লার্ট’ করার চেষ্টা করছেন ধর্মেন্দ্র। প্রথমে অবাক হলেও প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ওঁর গালে কষিয়ে একটা চড় মারি। এতটাই রেগে গিয়েছিলাম। ধর্মেন্দ্রকে বলেছিলাম, ‘এতটা নির্লজ্জ তুমি! তোমার সাহস হল কেমন করে আমার সঙ্গে এসব করার? যেখানে তোমার স্ত্রীয়ের সঙ্গে আমার আলাপ আছে…’ ”। 




প্রসঙ্গত, তনুজা ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কউরের কথা বুঝিয়েছিলেন। সেই সময় ধর্মেন্দ্র বড় ছেলে সানির বয়স পাঁচ এবং মেয়ে লালির বয়স ছিল মাস ছয়েক।

তনুজা আরও জানান, চড় খেয়েই হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। নিজের ব্যবহারে যারপরনাই লজ্জাও পেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে বলে উঠেছিলেন, “তনু, তুই আমার মা। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। দয়া করে এখনই আমাকে তোর ভাই বানিয়ে নে”। এরপর ধর্মেন্দ্রকে রাখিও পরিয়েছিলেন তনুজা। এরপর থেকে তাঁদের বন্ধুত্বে আর কোনওদিনও কিছুর আঁচ পড়েনি। বর্তমানে অশীতিপর এই দুই অভিনেতা-আজও কিন্তু পরস্পরের দারুণ বন্ধু।