অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এখন তাঁর আসন্ন হিন্দি ছবি 'ভূত বাংলা'-র প্রচারে ব্যস্ত। এই ছবির প্রচারে এসে যিশু বিতর্কিত গান নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, কোনও গানের কথার জন্য শুধুমাত্র গীতিকারকে দায়ী করা চলে না, কারণ সাধারণ মানুষই এই ধরনের গান শুনছেন এবং তা জনপ্রিয় করে তুলছেন।

সম্প্রতি মুম্বই সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে যিশু বলেন, বর্তমানে বিনোদন জগতের রুচি এবং মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সহজ, কিন্তু দর্শক যা গ্রহণ করেন, নির্মাতারা তাই তৈরি করার চেষ্টা করেন। যদি শ্রোতারা কুরুচিকর বা বিতর্কিত শব্দের গান বর্জন করতেন, তবে গীতিকাররা তা লিখতে সাহস পেতেন না। তিনি মনে করেন, শিল্প ও সংস্কৃতির মান বজায় রাখার দায়িত্ব শিল্পী এবং দর্শক উভয়েরই। 'ভূত বাংলা' ছবিতে নিজের চরিত্র এবং নোরা ফতেহি ও সঞ্জয় দত্তের বিতর্কিত গানটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন যে, সৃজনশীল স্বাধীনতা সবসময়ই থাকবে, কিন্তু তার প্রয়োগ কীভাবে হচ্ছে তা বিবেচ্য।

যিশু সেনগুপ্তের মতে, কোনও গানের বিষয়বস্তু বা কথা নিয়ে বিতর্ক হলে তার জন্য শুধু নির্মাতা বা গীতিকারদের দোষ দেওয়া ঠিক নয়, কারণ দর্শকরাই সেগুলো শুনছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, সাধারণত যে গানগুলো নিয়ে বেশি বিতর্ক হয়, মানুষ সেগুলোই সবথেকে বেশি দেখে এবং পছন্দ করে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তার প্রশ্ন, যদি কোনও গান ভাল না লাগে, তবে তা শোনার প্রয়োজন কী? যা পছন্দ নয়, তা এড়িয়ে যাওয়াই সবথেকে সহজ সমাধান।

যিশু আরও বলেন যে, বিনোদন জগতে একদিকে যেমন সাময়িক বিতর্কিত গান আছে, তেমনই আবার গুলজার বা জাভেদ আখতারের মতো কিংবদন্তি স্রষ্টারাও আছেন। শেষ পর্যন্ত শ্রোতা হিসেবে আপনি কী বেছে নেবেন, তা সম্পূর্ণ আপনার নিজের ওপর নির্ভর করে। তিনি নিজে সব সময় নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকতে ভালবাসেন। যিশুর বলেন, "চাইলে আমিও এমন মন্তব্য করতে পারতখম, তার থেকে বিতর্ক তৈরি হতে পারত, কিন্তু বর্তমানের অস্থির সময়ে নতুন করে আর নেতিবাচকতা ছড়াতে চাই না।" অভিনেতা জানান একজন ইতিবাচক মানুষ হিসেবে তিনি বরং গুলজার বা জাভেদ আখতারের সৃজনশীল কাজগুলো শুনেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন।