সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এবং জয়া আহসান অভিনীত আসন্ন ছবি ‘ওসিডি’-র পোস্টার প্রকাশ্যে এল। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি জয়া আহসান নিজেই তাঁর সামাজিক মাধ্যমে ছবিটির পোস্টার প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে ছিমছাম লুকে। নেই কোনও জৌলুস। মেকআপের ঘনঘটা।
জাহরা বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড নিবেদিত এবং ইন্ডিজেনাস ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবি শিশু নির্যাতনের মতো এক গভীরভাবে সংবেদনশীল এবং দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে আনতে চলেছে।
ছবিটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে পরিচালক সৌকর্য জানান, ‘ওসিডি’ তাঁর কাছে একেবারেই একটি প্রতিবাদমূলক কাজ। তাঁর কথায়, বহুবার তিনি এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন যেখানে শিশু নির্যাতনের অপরাধীরা পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও অচিহ্নিত থেকে যায়ষ শুধুমাত্র এই কারণে যে ভুক্তভোগী শিশুরা ভয়, অবিশ্বাস এবং নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে মুখ খুলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, তিনি এমন এক সমাজে বড় হয়ে উঠেছেন যা বাইরে থেকে আধুনিক ও প্রগতিশীল মনে হলেও ভিতরে গভীর ভণ্ডামিতে ভরা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনও শিশু যদি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে চায়, পরিবার তখন সামাজিক প্রশ্ন, যৌন কুসংস্কার এবং লজ্জার ভয়ে সত্যকে আড়াল করতেই বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সৌকর্যের মতে, আজও আমাদের সমাজে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কলুষিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।শিশুর যন্ত্রণাকে তথাকথিত ‘পবিত্রতা হারানো’র সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে কিছু অগ্রগতি হলেও শিশু অধিকার, বিশেষত যৌন নির্যাতনের মতো বিষয় নিয়ে সমাজ এখনও যথেষ্ট সংবেদনশীল ও প্রগতিশীল হয়ে উঠতে পারেনি বলেই তাঁর অভিমত।
শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, একটি শিশু যে মানসিক হিংসা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়, তা তাকে আজীবন বহন করতে হয়। এই অবদমিত যন্ত্রণা বহু ক্ষেত্রে আত্মবিধ্বংসী পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। আবার কখনও কখনও, দমিয়ে রাখা বেদনা যদি প্রতিশোধের রূপ নেয়, তবে তার ফল হতে পারে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী।
‘ওসিডি’ ছবির মাধ্যমে সৌকর্য এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গল্পটি বলতে চেয়েছেন। একটি শিশু, যে নির্ভীক, সমাজের বিচারের তোয়াক্কা করে না এবং নিজের সত্য প্রমাণ করার প্রয়োজনও বোধ করে না। এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছে সেই শিশুর কণ্ঠস্বর। ছবিটি মুক্তি পাবে ৬ ফেব্রুয়ারি।
