আফগানিস্তানে নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মেঘ ঘনাল। ভারতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া  বৃহস্পতিবার জানায়, তালিবান শাসনের নতুন আইনে গার্হস্থ্য হিংসাকে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদনের খবর “স্তম্ভিত ও অত্যন্ত বিপজ্জনক”। সংস্থার মতে, এই পদক্ষেপ কার্যত নারী নির্যাতনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার সমান।

এই বিতর্কের আবহেই সরব হলেন জনপ্রিয় গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। ২১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, তালিবানরা স্ত্রীর উপর মারধরকে বৈধতা দিয়েছে, তবে হাড় না ভাঙলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না! তাঁর অভিযোগ, স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী বাপের বাড়ি গেলে সেই স্ত্রী-র তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ভারতের ধর্মীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তিনি আবেদন জানিয়ে লেখেন, ধর্মের নামে এমন পদক্ষেপের নিঃশর্ত নিন্দা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সুবিধা যাই থাকুক, এই বর্বর নীতির জন্য তালিবানদের কোনও গ্রহণযোগ্যতা বা মর্যাদা দেওয়া উচিত নয়।

সম্প্রতি তালিবান শাসনের নতুন দণ্ডবিধি প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্কের সূত্রপাত। সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত প্রায় ৯০ পাতার এই ফৌজদারি বিধিতে গার্হস্থ্য হিংসা সংক্রান্ত একাধিক বিধান রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বামী যদি স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি না হয়, তবে তা প্রায় শাস্তির বাইরে থেকে যায়। এমনকি অভিযোগ প্রমাণের দায়ও মূলত নারীর উপর বর্তায়।

 

&t=313s

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড। অন্যদিকে, স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ি ছেড়ে গেলে বা ফিরে আসতে অস্বীকার করলে স্ত্রীকে তিন মাস পর্যন্ত জেলে পাঠানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, তাঁকে আশ্রয় দেওয়া আত্মীয়দের বিরুদ্ধেও অপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে! ফলে নারীর স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা আরও সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।