মায়ানগরীর চাকচিক্যর আড়ালে যে অন্ধকার মিশে থাকে, তার নাম 'ট্রোলিং' বা 'অনলাইন বুলিং'। সোশ্যাল মিডিয়ার এই বিষাক্ত সংস্কৃতির শিকার বারবার হতে হয়েছে অভিনেতা অর্জুন কাপুরকে। এবার দাদা অর্জুনের সমর্থনে সরাসরি মুখ খুললেন বোন জাহ্নবী কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, কাউকে অপমান বা মানসিকভাবে হেনস্তা করার পিছনে কোনও অজুহাতই ধোপে টেকে না।
জাহ্নবীর মতে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘ভাইরালিটি’ বা ভিউ পাওয়ার নেশায় মানুষ এতটাই মত্ত যে তারা নীতি-নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে সবাই প্রচার চায়। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তারা আমাদের মতো পাবলিক ফিগারদের সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। আসলে তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ থেকে এসব করে না, বরং কেবল ক্লিকবেট বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য আমাদের নাম ব্যবহার করে।”
দাদা অর্জুন কাপুরের প্রতি ট্রোলারদের আক্রমণ নিয়ে ব্যথিত জাহ্নবী। তিনি স্বীকার করেন যে, যখন কাউকে ভুল বোঝা হয় বা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়, তখন সেটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি দেখেছি আমার দাদাকে নিয়ে কীভাবে ট্রোলিং করা হয়। এই ধরনের বুলিংয়ের কোনও ক্ষমা নেই। নেতিবাচকতা কেবল নেতিবাচকতাই তৈরি করে। তাই এই ধরনের বিষাক্ত পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে অর্জুন কাপুরের অভিনয়ের দক্ষতা এবং তাঁর ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্য দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি অর্জুন তাঁর মা মোনা শৌরি কাপুরের জন্মবার্ষিকীতে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি জীবনের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করেন। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ অন্যদের অনুরোধ করেন অর্জুনের পোস্টে কটু মন্তব্য না করার জন্য।
প্রসঙ্গত, কাজের ক্ষেত্রে জাহ্নবীকে শেষবার দেখা গিয়েছে ‘সানি সংস্কারি কী তুলসী কুমারী’ ছবিতে। আগামীতে তাঁকে দক্ষিণী তারকা রাম চরণের বিপরীতে ‘পেড্ডি’ ছবিতে দেখা যাবে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।
