সলমন খানের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘কালা হিরণ: ব্যাটেল অফ লেগাসি’ ঘিরে বিতর্ক থামার নামই নিচ্ছে না। এবার এই হাই-প্রোফাইল প্রজেক্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন প্রযোজক অমিত জানি। ছবির মুখ্য অভিনেতা, অর্থাৎ পর্দায় সালমানের জুতোয় পা গলানো সোনু মিশ্র প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে ছবি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। ওঁর দাবি, সিনেমাটির উদ্দেশ্য অত্যন্ত নেতিবাচক এবং এখানে সলমন খানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খলনায়ক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোনু মিশ্র জানান, ছবির প্রথম লুক পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন কারণ ওঁর লুক সলমনের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল। কিন্তু শুটিং শুরুর পর থেকেই তিনি চিত্রনাট্য ও চুক্তিপত্র নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে ছিলেন।
ওই সাংবাদিক বৈঠকে সোনু বলেন, “আমি সলমন খানের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে দারুণ উত্তেজিত ছিলাম। কিন্তু দু'দিন শুটিং করার পরই আমি বুঝতে পারি, এই ছবিকে সলমনের একটি নেতিবাচক এবং একপাক্ষিক ছবি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। আর অভিনেতা হিসেবে আমি কোনও নেতিবাচক প্রচারের অংশ হতে চাই না।”
সোনু আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন যে, চুক্তিপত্রে এমন কিছু শর্ত ছিল যেখানে তাঁকে সংবাদমাধ্যমে সলমনের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করতে বাধ্য করা হতো। ওঁর কথায়, “আমি যখন চিত্রনাট্য ও চুক্তিপত্র চাইলাম, তখন প্রযোজকরা বুঝতে পারেন আমি ওঁদের ফাঁদে পা দিচ্ছি না। ওঁরা চেয়েছিলেন আমি সংবাদমাধ্যমের সামনে সলমন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করি, যা আমার নৈতিকতার বিরুদ্ধে।”
সোনু মিশ্রর এই সরে দাঁড়ানো এমন এক সময়ে এল যখন সালমান খানের আইনি দল দিল্লি হাইকোর্টে ছবিটির মুক্তি ও প্রচার নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছে। সলমনের আইনজীবীদের দাবি, এই সিনেমা অভিনেতার ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ লঙ্ঘন করছে এবং যেহেতু কৃষ্ণসার হরিণ মামলাটি এখনও আদালতের বিচারাধীন, তাই এই ছবি মামলার রায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের বর্তমান পরিস্থিতি:
নোটিশ জারি: দিল্লি হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই ছবির প্রযোজক অমিত জানি ও পরিচালক ভারত শ্রীনাথকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
পরবর্তী শুনানি: আগামী ১৯শে জুন, ২০২৬ তারিখে আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে।
মামলার দাবি: সলমনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ছবির পোস্টারে অভিনেতার সিগনেচার ‘নীল ব্রেসলেট’ এবং লাইফস্টাইল নকল করে ওঁর ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।
ছবির পোস্টার প্রকাশ হতেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল কারণ সেখানে সোনু মিশ্রকে বন্দুক হাতে দেখা গিয়েছিল, যেখানে অস্ত্র আইন মামলায় সলমন ইতিমধ্যেই খালাস পেয়েছেন। সোনুর এই পদত্যাগ এবং আদালতের আইনি চাপ—সব মিলিয়ে অমিত জানির এই বিতর্কিত প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে।
সোনু মিশ্র সম্প্রতি সলমনের ছবি ‘সিকান্দার’-এও একটি ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন। তাই ওঁর এই সিদ্ধান্ত সলমন-ভক্তদের কাছে বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।















