চর্চিত প্রেমিক সুকেশের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। সম্প্রতি জ্যাকলিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা সুকেশের একটি হাতে লেখা চিঠি নেটপাড়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
নেটিজেনদের মতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তারিখের এই চিঠিতে মূলত জ্যাকলিনের সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুকেশ। চিঠিতে সুকেশ জ্যাকলিনকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে 'মাই জ্যাকি' ও 'বেবি বোট্টা বোম্মা'-র মতো আদুরে নামে সম্বোধন করেছে। চলমান আইনি লড়াই সত্ত্বেও তাঁর প্রতি অটল আস্থা রেখে চিঠিতে লিখেছেন, 'ভালোবাসা ও যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায়সঙ্গত। তুমি আমার আর আমি চিরকাল তোমার থাকব। যাই ঘটুক না কেন, আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।'
চিঠির শেষে তিনি আরও লিখেছেন, 'তোমাকে পাগলের মতো ভালবাসি। এই মুহূর্তে আরও বেশি মনে পড়ছে তোমার কথা।' সুকেশের এই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে এই নিয়ে।
প্রসঙ্গত, সুকেশ চন্দ্রশেখর জড়িত ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক শুনানিতে ইডি, জ্যাকলিনের দায়ের করা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনকে অত্যন্ত 'অস্পষ্ট' ও 'ভিত্তিহীন' বলে অভিহিত করেছে। দিল্লি আদালতে জমা দেওয়া জ্যাকলিনের হলফনামায় কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা সাফ জানিয়েছে যে, তদন্তকে ভিন্ন পথে চালিত করতেই এই ধরনের আইনি কৌশল অবলম্বন করছেন অভিনেত্রী।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই মামলার মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সেই অপরাধের টাকা কোথায় কোথায় লেনদেন হয়েছে, সে সম্পর্কে জ্যাকলিন সবটা জানতেন। তা সত্ত্বেও তিনি শুরু থেকেই অনেক তথ্য গোপন করেছেন। ইডির মতে, রাজসাক্ষী হতে গেলে অভিযুক্তকে সমস্ত সত্যি অকপটে স্বীকার করতে হয় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হয়। কিন্তু জ্যাকলিনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের সুবিধামতো বিভিন্ন তথ্য পরিবেশন করছেন আদালতের কাছে। সেই সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্ট জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনের শুনানি স্থগিত করেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৮ মে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ইডি এই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের জবাব জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিয়ে।
















