'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' আবারও সামনে এনে দিয়েছে এক পুরনো কিন্তু অমীমাংসিত প্রশ্ন—ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী দাউদ ইব্রাহিম কি এখনও জীবিত? ১৯৯৩ সালের মুম্বই সিরিয়াল বিস্ফোরণের মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত দাউদ ইব্রাহিম বহু দশক ধরেই আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলির নজরে। সেই হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং হাজারো মানুষের আহত হওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত ছায়ার আড়ালে।

ভারত থেকে দাউদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনওদিনই গোপন ছিল না। আটের দশকের গোড়ার দিকেই তিনি দুবাইয়ে বসবাস শুরু করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপন, বলিউডের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি শারজায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ উপভোগ করার কথাও উঠে এসেছে নানা সূত্রে। সেই সময় স্থানীয় প্রশাসন দাউদের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকলেও কার্যত চোখ বন্ধ করেই ছিল, এমন অভিযোগও বহুবার শোনা গিয়েছে।


মুম্বই বিস্ফোরণের পর দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানের করাচিতে ঘাঁটি গেড়েছেন, ভারতের একাধিক তদন্তকারী সংস্থার দীর্ঘদিনের দাবি। করাচি বহুদিন ধরেই দাউদের ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও পাকিস্তান বারবার এই দাবি অস্বীকার করেছে।

তিনি কি এখনও বেঁচে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডার কিন্তু অন্য কথা বলছে। ২০২০ সালে ফিনান্সিয়াল  অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর চাপে পাকিস্তান যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে দাউদ ইব্রাহিমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, সঙ্গে করাচির একাধিক ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়।একইসঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর নিষেধাজ্ঞা তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে, যেখানে তাঁর বিভিন্ন ছদ্মনাম ও অবস্থানের তথ্য নথিভুক্ত। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তথ্যের আপডেট হওয়াও ইঙ্গিত দেয়—তিনি এখনও জীবিত বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।


২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দাউদ ইব্রাহিমকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ ঘোষণা করে। তাঁর সঙ্গে আল কায়দা এবং লস্কর-ই-তৈবার যোগসূত্রের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি মাদক পাচার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে বলে দাবি বিভিন্ন সংস্থার।


তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও, দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে রহস্যের শেষ হয়নি। তিনি কোথায়, কেমন আছেন—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর আজও অজানা।এখনও অধরা তবে ধুরন্ধর ২ আবার সেই দাউদ ইব্রাহিম এবং পাকিস্তান বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নও তাই এখনও ঝুলে রয়েছে -সময়ের অপেক্ষায়।

 ধুরন্ধর ২-এর সুবাদে ফের বড়পর্দায় সামনে এনে দিয়েছে ভারতের এই মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি অপরাধী দাউদ ইব্রাহিম-কে। তবে সিনেমার চরিত্র হিসেবে নয়। বরং এক জীবন্ত, নথিভুক্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী হিসেবে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের সেই ক্ষত আজও তাজা। আর সেই ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে প্রশ্ন এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। দাউদ ইব্রাহিম এখন ঠিক কোথায়? জীবিত না মৃত?