চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সমাজমাধ্যমে রীতিমত বোমা ফাটান অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে আনেন তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি। বেনারসে গিয়ে বিয়ে সেরেছেন তিনি। পাত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। পেশায় মডেল তিনি। নিজেই সমাজমাধ্যমে ঋত্বিকার সঙ্গে বিয়ের ছবি ভাগ করেছিলেন হিরণ। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্ট মুছে দেন তিনি। এরপরই তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানান তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি এখনও, তাহলে এই বিয়ে কীভাবে বৈধ হতে পারে। তারপর থেকে এক নাগাড়ে সমালোচনা, কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর নতুন বউ ঋতিকা গিরিকে। যদিও অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে হিরণ চট্টোপাধ্যায় বহুদিন আগেই ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন ঋতিকা। এরপর জল গড়ায় আরও বহুদূর। গোটা ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হিরণের প্রথম স্ত্রী। মেয়ে নিয়াশা চট্টোপাধ্যায় এবং আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবী জানান, তাঁরা দুজনের নামে অর্থাৎ হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির নামে অভিযোগ জানিয়েছেন। এফআইআর নম্বর পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাবেন তাঁরা।
প্রায় মাস দেড়েক চুপ থাকার পর ফের সমাজমাধ্যমে একসঙ্গে ধরা দিলেন হিরণ-ঋত্বিকা! ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট্ট ভিডিও পোস্ট করেছেন হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী। সেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এবং হিরণ গলায় মালা পরে একটি মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের আরতি দেখছেন। এরপর ভক্তিভরে আরতি করতেও দেখা যায় ঋত্বিকাকে। পাশে তখন দাঁড়িয়ে হিরণ। এই ভিডিওর সঙ্গে একটি পোস্ট করেছেন ঋত্বিকা, যা ভিডিওর থেকেও বেশি চর্চায় এসেছে। সেখানে আধ্যাত্মিকতার বার্তা তুলে ধরে ঋত্বিকা লেখেন, “আধ্যাত্মিকতা আমাদের শিখিয়েছে নীরবতা দুর্বলতা নয়, সেটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।ধৈর্য মানে অপেক্ষা নয়, বরং নিজের ভেতরের দৃঢ়তার উপর বিশ্বাস। আর বিশ্বাস, সেটাই সবকিছুর ভিত্তি।যখন হৃদয় থাকে নির্মল, আর উদ্দেশ্য থাকে স্বচ্ছ, তখন মহাবিশ্ব নিজেই পথ খুলে দেয়। সবকিছু বোঝার দরকার হয় না। কিছু বিষয় আছে, যেগুলো শুধু বিশ্বাস করতে হয়, কারণ ব্যাখ্যার চেয়ে আস্থা অনেক গভীর।”
পোস্টের এর পরের অংশটাতেই অনেকে পরোক্ষ খোঁচা বলে মনে করছেন। যদিও কোথাও কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবু নেটপাড়ার একাংশের দাবি, এটি হিরণের প্রথম স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই লেখা — “অনেকেই অনেক কথা বলবে, কারণ তারা কিছুই জানে না। কিন্তু আমরা শব্দ বেছে নিই না, আমরা বেছে নিই নীরবতা। কারণ আমাদের উত্তর হল ধৈর্য। আর শেষ পর্যন্ত, আমাদের উত্তর হল সাফল্য।”
?igsh=eDdjY29uNWJiMWU1
যদিও ঋত্বিকার এই পোস্টে মন ভেজেনি নেটপাড়ার সব বাসিন্দাদের। তাই তো একজন রাখঢাক না করেই হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রীর উদ্দেশ্যে মন্তব্য করলেন, “আচ্ছা কী করে আপনার হৃদয় স্বচ্ছ এবং চিন্তাভাবনা পরিষ্কার থাকে বলুন তো? কারণ আপনি একজনের পরিবার ভেঙেছেন, এক সন্তানকে তার বাবার থেকে আলাদা করে দিয়েছেন আর তারপরেও সেই ব্যাপারটা নির্লজ্জের মতো সমাজমাধ্যমে ফলাও করে বলছেন? শুনুন, সত্যিকারের আনন্দ কিন্তু ফলাও করে দেখতে হয় না। আপনি নিজেও জানেন এইমুহূর্তে আপনার পরিস্থিতিটি ঠিক কী। তাই সবথেকে ভাল হয়, যদি একবার যে ঈশ্বরের কাছে নিজের করা ভুলভাল কাজের জন্য ক্ষমা চান। আর একটা কথা, যে একবার ঠকায় সে কিন্তু বারবারই ঠকায়। তাই নিজের আনন্দ ব্যক্তিগত পরিসরেই উদ্যাপন করুন। আর এসব না দেখিয়ে নিজের গুণগুলো বরং সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিন।”

