আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার প্রকাশিত দলের প্রথম দফার ১৪৪ জন প্রার্থীর তালিকায় খড়গপুর সদর কেন্দ্র নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটল। বর্তমান বিধায়ক তথা জনপ্রিয় অভিনেতা হিরণ চ্যাটার্জির নাম বাদ দিয়ে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে। আর খড়গপুর থেকে থাকছেন তপন ভূঁইয়া।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন হিরণ চ্যাটার্জি। তবে ২০২৬-এর লড়াইয়ে পদ্ম শিবির তাদের এই তারকা প্রার্থীর ওপর ভরসা না রেখে পুরনো সেনাপতি দিলীপ ঘোষকেই ময়দানে ফিরিয়ে আনল। বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম থাকলেও ব্রাত্য থেকেছেন হিরণ। হিরণকে কি অন্য কোনো কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হবে, নাকি তাঁকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হিরণের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া না মিললেও এই বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন তারকার প্রাক্তন স্ত্রী অনিন্দিতা চ্যাটার্জি। 

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অনিন্দিতা লেখেন, 'কর্মফলের চাকা সবসময় ঘোরে'। অনিন্দিতার এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মতে, প্রথম দফায় খড়গপুর থেকে হিরণকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না করাকেই ইঙ্গিত করেছেন অনিন্দিতা। হিরণের দ্বিতীয় বিয়েটাই 'কর্মফল' হিসেবে নাকি দেখছেন তিনি। 

হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে অনিন্দিতা আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছিলেন, তিনি নাকি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। শুধু তাই-ই নয়, অনিন্দিতা জানান হিরণের সঙ্গে তাঁর নাকি বিচ্ছেদ হয়নি। তাই হিসেবে মতো, হিন্দু ধর্মে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব নয়। কিন্তু সেটাই করেছেন হিরণ। তিনি বলেছিলেন, "কয়েক বছর আগে আমরা আলাদা থাকতাম ঠিকই, কিন্তু ক'দিন আগে আমরা আবার একসঙ্গেই ছিলাম। গত বছর নভেম্বরে মেয়ের জন্মদিন সেলিব্রেট করতে ব্যাংকক গিয়েছিলাম। আমাদের তো ডিভোর্স ফাইলই হয়নি। হিরণের এই বিয়েটা তো ইললিগাল। মেয়ের অবস্থা চোখে দেখা যাচ্ছে না। কোনও কথা বলছে না। বাবার এরকম খবর এলে কী করতে পারে একটা মেয়ে?"