২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কয়েক দশক ধরে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তাঁকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। অভিনেতাকে এই সম্মান দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী ও সাংসদ হেমা মালিনী। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি ধর্মেন্দ্র অনেক আগেই প্রাপ্য ছিলেন।

হেমা জানান, রবিবার সকালে তিনি এই খবর পান এবং এতে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, চলচ্চিত্র জগতে ধর্মেন্দ্রর অবদান ছিল অসামান্য। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেমা বলেন, “একজন অভিনেতা হিসাবেই নয়, একজন মানুষ হিসাবেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। তিনি সব সময় মানুষকে সাহায্য করতেন, যা সত্যিই বিরল। এই সম্মান তাঁর প্রাপ্য।”

তিনি আরও বলেন, “এই সম্মান তাঁর অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। তবু এখন এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটাই বড় সম্মানের বিষয়।”

পদ্ম পুরস্কারের ঘোষণা হওয়ার পরই রবিবার নিজের অফিসিয়াল এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডলে ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা লেখেন হেমা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সরকার ধরমজির চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করায় আমি ভীষণ গর্বিত।’

ছয় থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হত। এবং তিনি বলিউডে পরিচিত ছিলেন ‘হি-ম্যান’ নামে। আদ্যোপান্ত ‘মশালাদার’ বাণিজ্যিক ছবিকে তিনি এমন সহজাত দক্ষতায় সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে, মানুষ তাঁর অভিনয়ে খুঁজে পেত নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। শহর হোক বা গ্রাম, ধনী হোক বা সাধারণ মানুষ— ধর্মেন্দ্র ছিলেন সকলের আপনজন। সেই সময় রিকশার পিছনের পোস্টার থেকে শুরু করে অষ্টাদশীর বইয়ের পাতার ফাঁকেও জায়গা ছিল তাঁরই ছবির। যেন ধর্মেন্দ্র শুধু পর্দার নায়ক নন, সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এক আবেগ, এক মুগ্ধতা।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন যেমন জয় করেছেন, তেমনই পুরস্কার পেয়েছেন অগণিত। ১৯৯১ সালে ‘ঘায়েল’-এর সুবাদে আসে জাতীয় পুরস্কার। ২০২১ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের জন্য। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করে।

নব্বইয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে ধর্মেন্দ্র শরীর নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও ভক্তরা তাঁর মনের সজীবতায় মুগ্ধ ছিলেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নায়ক থেকে পরিণত হয়েছেন চরিত্রাভিনেতায়— আর সেখানেও নিজস্ব ছাপ রেখে গিয়েছেন অচিরে। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছেন, প্রমাণ করেছেন— সত্যিকারের শিল্পীর বয়স হয় না, শুধু রূপ বদলায়। ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘আপনে’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’-র মতো ছবিগুলি তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।