বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। বিশেষ করে তাঁর দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘিরে। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫-এ ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জল্পনা। সেই জল্পনা আরও জোরদার হয় যখন অভিনেতার প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং তাঁদের সন্তানদের -সানি দেওল, ববি দেওল, অজীতা ও বিজেতা দেওলআয়োজিত প্রার্থনা সভাতে উপস্থিত থাকেননি হেমা মালিনী ও তাঁর কন্যারা।
এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার মুখ খুললেন হেমা মালিনী। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বাস্তবের সঙ্গে এই সব গুঞ্জনের কোনও সম্পর্ক নেই। সানি ও ববি দেওলের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হেমার বক্তব্য, “সানি আমাকে সবসময় সব জানায়। ও যা কিছু করে, আমাকে বলে। আমাদের সম্পর্ক বরাবরই খুব ভাল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। আজও তাই।”
এই জল্পনা কেন তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “আমি বুঝতেই পারি না কেন মানুষ ভাবে আমাদের মধ্যে কিছু গুরুতর সমস্যা আছে। আসলে মানুষ গসিপ চায়। কিন্তু আমি কেন তার উত্তর দেব? কেন আমাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে? এটা আমার জীবন, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন। আমরা সবাই খুব সুখে আছি, সানি খুব কাছের মানুষ। এর বেশি কিছু বলার নেই।”
শোকের মুহূর্তকে কেন্দ্র করে যেভাবে নানা গল্প রটানো হচ্ছে, তাতে স্পষ্টভাবে বিরক্ত হেমা মালিনী। তিনি বলেন, “খুব দুঃখের বিষয়, কিছু মানুষ অন্যের শোককে ব্যবহার করে কয়েকটা আর্টিকেল লেখে। সেই কারণেই আমি এইসব জল্পনার উত্তর দিই না।”
ধর্মেন্দ্রর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ এখনও দেখা হয়নি হেমার। সেই প্রসঙ্গেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। হেমা জানান, ছবি মুক্তির সময় তিনি মথুরায় ছিলেন কাজের সূত্রে। তবে এখনই সেই ছবি দেখার মানসিক শক্তি তাঁর নেই। “এখন দেখলে খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে যাবে। আমার মেয়েরাও তাই বলছে। হয়তো পরে, যখন শোকের ক্ষত একটু শুকোবে, তখন এই ছবি দেখব,” বলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর দিল্লিতে হেমা মালিনী ও তাঁর কন্যারা একটি পৃথক প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিলেন। সেখানে স্বামীকে স্মরণ করে আবেগে ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। অন্যদিকে, মুম্বইয়ে ধর্মেন্দ্রর পুত্র সানি ও ববি দেওলের আয়োজিত প্রার্থনা সভিতে উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ খান, সলমন খান, ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, মাধুরী দীক্ষিত, রেখা, জ্যাকি শ্রফ, সুনীল শেট্টি-সহ বলিউডের একাধিক তারকা।
প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান -সানি, ববি, বিজেতা ও অজীতা। পরবর্তীতে হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর সংসারে আসে দুই কন্যা -এষা ও অহনা দেওল।
গুঞ্জনের আবহে দাঁড়িয়ে হেমা মালিনীর বক্তব্য স্পষ্ট, সম্পর্কের সমীকরণ সংবাদ শিরোনামে নয়, বাস্তবের জায়গাতেই নির্ধারিত হয়। শোকের সময়েও সেই বাস্তবতাকেই সম্মান জানানোর বার্তাই দিলেন তিনি।
