৬ জানুয়ারি ৫৮ বছরে পা দিলেন অস্কারজয়ী গায়ক এ আর রহমান। যদিও তাঁর আসল নাম দিলীপ কুমার। আরও বিশদে বললে, দিলীপ কুমার রাজাগোপাল। মাদ্রাসে হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় বদলান নিজের ধর্ম। কিন্তু কেন সুফিজম গ্রহণ করেন এবং ধর্ম বদলান?
এ আর রহমান অতীতে একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন তাঁর ধর্ম বদলানোর কারণ। বলেন, 'আমি সব ধর্মের ফ্যান। আমি ইসলাম পড়েছি, হিন্দুত্ববাদ পড়েছি। খ্রিষ্টান ধর্ম নিয়েও পড়েছি।' ফলে এখান থেকেই স্পষ্ট, তাঁর সমস্ত ধর্মের বিষয়েই দারুণ আগ্রহ। কিন্তু তাঁকে সেটাই কষ্ট দেয় যা বিশ্বাসের নাম করে অন্যকে আঘাত দেয়। তাঁর কথায়, 'আমার সমস্যা ধর্মের নামে অন্য মানুষকে মারা এবং কষ্ট দেওয়ায়।'
এ আর রহমান আরও জানিয়েছেন, 'আমি মানুষকে বিনোদন দিতে ভালবাসি এবং আমি যখন পারফর্ম করি তখন মনে হয় আমি কোনও মন্দিরে রয়েছি। সবাই যে এক সেটার স্বাদ অনুভব করি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, বিভিন্ন ভাষার মানুষ সবাই একসঙ্গে আসে।' ফলে অস্কারজয়ী গায়কের মতে, সঙ্গীত এমন একটা জিনিস যেখানে সমস্ত বিভেদ মুছে যায়।
কিন্তু এত ধর্মের মধ্যে তিনি কেন সুফিজিম বেছে নিলেন? কেনই বা নিজের ধর্ম বদলালেন? গায়কের কথায়, 'মৃত্যুর আগেই মৃত্যু যেন এই সুফিজিম। এখানে এমন অনেক স্ক্রিন আছে যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। এখানে মোহ, ঘৃণা, হিংসা, জাজ করার বিষয় ত্যাগ করতে হয়। ইগো থাকে না। ঈশ্বরের মতো স্বচ্ছ হওয়া যায়।' এ আর রহমানের মতে আধ্যাত্মিকতা লেবেল নয় কোনও, বরং অনুশাসন এবং মানবতা।
রহমানের বায়োগ্রাফি 'এআর রহমান: দ্য স্পিরিট অফ মিউজিক' বইটিতে তিনি জানিয়েছেন কেউ তাঁকে জোর করেনি ধর্ম বদলাতে। তিনি স্বেচ্ছায়, মনের কথা শুনে সুফিজিমের পথ বেছে নেন। তাঁর মতে, প্রতিটি ধর্মেই একটা জিনিস এক, ধর্মের প্রতি কতটা টান ভালবাসা, সেটা বোঝা যায় কতটা ভাল কাজ করা হল সেটার মাধ্যমে। মনুষত্ব আসল বিষয় বলেই তাঁর মত।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে 'রোজা' ছবির হাত ধরে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এ আর রহমান। এরপর তাঁকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট গান উপহার দিয়েছেন। ২০০৯ সালে অস্কার পান 'স্লামডগ মিলেনিয়ার' ছবির 'জয় হো' গানটির জন্য।
