বিয়ের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ইতি পড়ল দাম্পত্যে। সোহেল খাতুরিয়ার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় এবার সিলমোহর দিলেন অভিনেত্রী হংসিকা মোতওয়ানি। সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে আইনি বিচ্ছেদ—সবটা নিয়েই প্রথমবার মুখ খুললেন ‘কোই মিল গ্যায়া’ ছবি খ্যাত এই তারকা।

 

বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চায় ছিল হংসিকা মোতওয়ানি ও সোহেল খাতুরিয়ার ব্যক্তিগত জীবন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে স্বামীর সঙ্গে সমস্ত ছবি মুছে ফেলা এবং আলাদা থাকা নিয়ে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। এবার সেই সব জল্পনায় ইতি টেনে হংসিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি তাঁর জীবনের এই সিদ্ধান্তে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। বরং তিনি এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছেন।


সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে হংসিকা বলেন, “মানুষ ক্লিকবেট আর হেডলাইন চেয়েছিল, তারা তা পেয়েছে। আমি কোনওদিন এই নিয়ে সাফাই দিইনি, আর দেবও না। কারণ এটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভুল ট্রেনে উঠে পড়লে মাঝপথেই নেমে পড়া ভাল। সারা জীবন কষ্ট পাওয়ার কোনও মানে হয় না। তাই বলব, আমি এখন যেখানে আছি, যেমন আছি খুব ভাল আছি।”


বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টা হংসিকার জন্য সহজ ছিল না। অভিনেত্রী জানান, সেই সময় তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি খুব হাসিখুশি একজন মানুষ। কিন্তু সেই সময় আমি খুব অন্ধকার একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। মা আর ভাই আমাকে দেখে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরাই আমাকে বলেছিলেন, যদি আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করি, তবে যেন এই সম্পর্ক টেনে না নিয়ে যাই।” হংসিকা আরও যোগ করেন যে, তাঁদের দু’জনের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, তা বাইরের কারও জানার কথা নয়।


২০২২ সালের ডিসেম্বরে জয়পুরে ধুমধাম করে সোহেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল হংসিকার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ছোটখাটো বিষয়ে অশান্তি দানা বাঁধতে শুরু করে। খবর, ২০২৪ সালের ২ জুলাই থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সম্প্রতি হংসিকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিচ্ছেদের জন্য তিনি কোনও খোরপোশ দাবি করেননি।