বসন্তের হাওয়াতেই বিচ্ছেদের সুর! দীর্ঘদিন ধরে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল, এই তারকা দম্পতি নাকি বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চলেছেন। এবার সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল। কাদের কথা বলা হচ্ছে? হংসিকা মোতওয়ানি এবং সোহেল খাটুরিয়ার। 

২০২২ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েন হংসিকা মোতওয়ানি এবং সোহেল খাটুরিয়া। এরপর ২০২৫ সালের অগাস্ট মাস থেকেই জল্পনা শুরু হয় তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের। অবশেষে ১১ মার্চ এই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল। জানা গেল মুম্বইয়ের বান্দ্রার ফ্যামিলি কোর্ট তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বিষয়টি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে হংসিকা মোতওয়ানির আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন। 

প্রসঙ্গত, হংসিকা মোতওয়ানি বলিউডের অতি চেনা মুখ। তিনি 'আপ কা সুরুর', 'অরু কাল অরু কন্নড়ি', 'মাই নেম ইজ শ্রুতি', ইত্যাদির মতো ছবিতে কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ব্যবসায়ী সোহেল খাটুরিয়াকে বিয়ে করেন। জয়পুরের এক বিলাসবহুল দুর্গ তথা রাজপ্রাসাদে তাঁদের বিবাহ বাসর বসেছিল। চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হয় তাঁদের। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে সমাজমাধ্যমে হঠাৎই গুঞ্জন রটে হংসিকা এবং সোহেলের বিবাহ বিচ্ছেদের। 

সেই সময় হংসিকার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একজন সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “হংসিকা তার মায়ের সাথে চলে গিয়েছে, আর সোহেল তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই আছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন  দু’জন বিয়ে করে, তখন তারা প্রথমে সোহেলের পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। তবে, একটি বড় পরিবারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া একটি সমস্যা ছিল। তাই, তারা একই বাড়ির একটি কনডোতে চলে আসে। কিন্তু মনে হচ্ছে সমস্যাগুলি রয়ে গিয়েছে।”

হংসিকা এবং সোহেলের বিয়ের অনুষ্ঠানটি জিওহটস্টারের একটি রিয়্যালিটি শো হিসাবে রাখা হয়। নাম ‘হংসিকা’স লাভ শাদি ড্রামা’।

জানা গিয়েছে, উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই বিচ্ছেদ ঘটেছে। দুই পক্ষই চায়নি এই ভাঙা বিয়েতে থাকতে। তাই  এমন সিদ্ধান্ত। হংসিকা মোতওয়ানি বিবাহ বিচ্ছেদের পর কোনও রকম খোরপোষ দাবি করেননি। এমনটাই তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। তিনি এও জানিয়েছেন হংসিকাই প্রথমে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা তাঁর স্বামীকে জানান। আর সেখান থেকেই তাঁরা আইনি ভাবেই এই বিয়েতে ইতি টানলেন। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, হংসিকা মোতওয়ানি এবং সোহেল খাটুরিয়ার আলাপ দীর্ঘদিনের। প্রেমিকাকে আইফেল টাওয়ারের নিচে বিয়ের প্রস্তাব দেন সোহেল। পরবর্তীতে তাঁরা সাত পাকে বাঁধা পড়েন। বিয়ের পর, একগুচ্ছ ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে হংসিকা মোতওয়ানি লিখেছিলেন, 'এখনের এবং চিরকালের।' কিন্তু সেই চিরকালের গল্প মাত্র ৪ বছরের মাথাতেই ফুরাল।

হংসিকাকে বিয়ে করার আগে সোহেলের স্ত্রী ছিলেন রিঙ্কি বাজাজ। জানা গিয়েছে, রিঙ্কি এবং হংসিকা খুব ভাল বন্ধু ছিলেন। তবে, হংসিকা এবং সোহেল উভয়েই তাঁদের শোয়ে বলেছিলেন, যে তাঁরা একে অপরকে অনেক দিন ধরে চেনেন কারণ সোহেল নায়িকার ভাইয়ের বন্ধু ছিলেন।

বিয়ের পরেও যদিও হংসিকার পিছু ছাড়েনি কটাক্ষ। অনেকেই বলেছিলেন বন্ধুত্বে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন নায়িকা। তবে নেতিবাচকতাকে কোনও রকম তোয়াক্কা না করেই নিজের শর্তে বাঁচেন অভিনেত্রী। ব্যস্ত থাকেন কাজ, সংসার এবং ভ্রমণ নিয়ে। তিনি শিশুশিল্পী হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ‘শাকা লাকা বুম বুম’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে করুণা নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পর্দায় সেই একরত্তি মেয়ের সারল্য মন জয় করে নেয় সকলের। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এরপর ঋত্বিক রোশনের সঙ্গে ‘কোই মিল গয়া’ ছবিতেও অভিনয় করেন হংসিকা। নায়কের বন্ধুর চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তার কয়েক বছর পরেই পুরদস্তুর নায়িকা ওঠেন তিনি।