নববর্ষ জেন জি-র কাছে বেঙ্গলি নিউ ইয়ার হিসাবে পরিচিত হলেও একটা সময় বাঙালির জীবনে নিউ ইয়ার নয়, নববর্ষ নিয়ে ছিল উন্মাদনা৷
পয়লা বৈশাখে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লার সঙ্গে। নববর্ষের সেকাল একাল নিয়ে কথা বললেন শিল্পী৷ আনন্দের সঙ্গে আক্ষেপের সুর হৈমন্তী শুক্লার স্মৃতিকথায়।
ছোটবেলার নববর্ষের কথা বলতে গিয়ে হৈমন্তী শুক্লা নস্টালজিক। তিনি বললেন," এখন তো হালখাতা উঠে গেছে৷ আমাদের সময় তো নববর্ষ মানে ছিল অপেক্ষা৷ বাড়ির চারপাশে দোকান৷ সেখান থেকে মিষ্টির বাক্স আসবে৷ সঙ্গে একটা করে বাংলা ক্যালেন্ডার। দোকানে গেলেই নানা রকমের মিষ্টি আর লাল, নীল, হলুদ নানা রঙের শরবত৷ সেসব নিয়ে খুব মজা হত৷"
ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে৷ সেইসঙ্গে বাঙালির পুরনো রীতি রেওয়াজও যেন কিছুটা ফিকে৷ হৈমন্তী শুক্লার কথনেও সেই হারানো সুর৷ শিল্পী বললেন,"এখন তো নববর্ষ আর নেই। এখন হ্যাপি নিউ ইয়ার হয়ে গিয়েছে।"
"ছোটবেলাটা খুব সুন্দর কাটত৷ বড়বেলাতেও নববর্ষ দুর্দান্ত কেটেছে৷ নববর্ষ মানে ছিল গানের আড্ডা৷" গানের আড্ডা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হৈমন্তী শুক্লার কথায় মনখারাপের সুর৷
সত্তর আশির দশকে নববর্ষ উপলক্ষে বসুশ্রী সিনেমা হলে বসত গানের আসর৷ স্মৃতিমেদুর হৈমন্তী শুক্লা বললেন, "এই বছর খুব মিস করছি৷ বসুশ্রী সিনেমা হলে বাংলা গানের আসর হত। উত্তমকুমার থেকে সৌমিত্রদা কে না এসেছে সেখানে৷"
গান বাজনা আড্ডা খাওয়াদাওয়া হইহই করে কাটত নববর্ষ। শিল্পীরা সেদিন অন্য কোথাও গানের অনুষ্ঠান রাখতেন না বসুশ্রীতে গাইবেন বলে৷ সেই সময়কার খ্যাতনামী শিল্পীদের সকলেই আসতেন বসুশ্রী সিনেমাহলের নববর্ষের আড্ডায়।
হৈমন্তী শুক্লা বলেন," এমনও হয়েছে, সন্ধ্যাদি গান গাইছেন, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য তবলা বাজাচ্ছেন৷ কী সব দিন ছিল। আজ সেই সব স্মৃতি খুব মনে পড়ছে৷ আর খারাপ লাগছে৷"
















