১২ এপ্রিল, ২০২৬। সুরের আকাশে এক নক্ষত্রপতন। ৯২ বছর বয়সে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল-এর কারণে প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। শোকের আবহে যখন গোটা দেশ, তখন তাঁর নাতি চিন্টু ভোঁসলে জানালেন আশা তাঈ-এর শেষ মুহূর্তের সেই শান্ত প্রস্থান ও জীবনের শেষ দিনগুলোর কিছু অকথিত গল্প।
জীবন তিনি নিজের শর্তেই কাটিয়েছেন, আর মৃত্যুর সময়ও যেন বেছে নিলেন নিজের পছন্দমতো শান্তিকেই। ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন পর নাতি চিন্টু ভোঁসলে এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোর কথা। তাঁর কথায়, “সবকিছু খুব সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল। তিনি শান্তিতে, ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, কোনও কষ্ট তাঁকে ছুঁতে পারেনি।”
নাতি চিন্টু ভোঁসলের স্মৃতিচারণায় উঠে এল এক অদম্য মানসিকতার আশা ভোঁসলে। মৃত্যুর তিন-চার দিন আগেই শেষবার কথা হয়েছিল তাঁদের। সেই কথোপকথনে আম খেতে খেতে আলোচনায় ছিল ইরান-ইউএস-ইজরায়েল দ্বন্দ্বের মতো ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যা প্রমাণ করে, শেষদিন পর্যন্ত তিনি কতটা সচেতন ছিলেন।
চিন্টু জানান, মৃত্যুর ঠিক আগের দিনও তিনি তিন ঘণ্টা ধরে একটি মারাঠি নাটক দেখেছেন। তিনি আরও বলেন, “সেদিন তিনি মঞ্চে উঠে আয়োজকদের বকুনিও দিয়েছিলেন, বলেছিলেন শিল্পকে যেন তাঁরা বাঁচিয়ে রাখেন। একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এমনই ছিলেন। হাসপাতালে যাওয়ার আগে আমাদের বলেছিলেন, ‘আমাকে কিছুক্ষণ ঘুমাতে দাও।’ তিনি যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই নিজের শর্তে বিদায় নিলেন।”
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে তাঁর নাতনি জনাই ভোঁসলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। জনাইয়ের বড় হয়ে ওঠা, গান শেখা—সবকিছুর পেছনেই আশা ভোসলের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। চিন্টু জানান, “সবাই শোকস্তব্ধ। তবে আমরা ওঁর জীবনকে উদযাপন করার চেষ্টা করছি। প্রায়ই আমরা ডিনার করতে বসছি, আড্ডা দিচ্ছি, হাসাহাসির মাঝে তাঁকে মনে করছি।”
আশা ভোঁসলের জীবনের কঠিনতম অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে চিন্টু আরও বলেন, “একজন মা হিসেবে তিনি তাঁর দুটি সন্তানকে হারিয়েছেন, যা পৃথিবীর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক। তবুও তিনি অসীম ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে সব কাটিয়ে উঠেছেন। তিনি সবসময় বলতেন, ‘তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে, খারাপ সময় আসবেই, কিন্তু সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়।’ তাঁর এই জীবনীশক্তিই আমাদের প্রেরণা।”
















