মার্চ মাসের শেষ থেকেই টলিউডে একের পর এক খারাপ খবর। ২৯ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেতা, বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ টলি পাড়া। এদিন তাঁর শেষ যাত্রায়, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হাজির ছিল টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ইমন চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, দীপাঞ্জন জ্যাক ভট্টাচার্য, জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরাত্রিকা মাইতি, প্রমুখকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।
এদিন প্রয়াত অভিনেতার মেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "বিগত দুই বছর ধরে বাবা খুবই ভুগছিলেন। অনেকবারই হাসপাতালে গিয়েছেন, বাড়ি এসেছেন, আবার হাসপাতালে গিয়েছেন। একটা সুস্থ মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকলেন। বাবার যে মনের স্পিরিট সেটাও কমে যাচ্ছিল। একটা সময়ের পর মনে হচ্ছিল বাবার খোলটাই আছে, মানুষটা আর নেই। বাবা আজ সকালে চলে গেল, মনে হয় বাবা এখন যেখানেই আছে অনেক ভাল আছে। যে কষ্টটা পাচ্ছিল, সেটা আর পাচ্ছে না। হয়তো নতুন করে জন্ম নেবে। বাবার কষ্টের দিন শেষ, আমাদের শুরু।"
শোকস্তব্ধ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। 'বিপ্লবদা'কে হারিয়ে ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠ পুত্র' বলেন, "পরপর এই ঘটনাগুলো ঘটছে। পরপর কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই হয়তো জানেন না, যে সময় সাদা কালো টিভি ছিল, টিভি ঝিরঝির করত, সেজ সময় সংবাদ পাঠ করতেন তিনি। অনবদ্য সংবাদপাঠ করতেন। যে টেলিফিল্মগুলো হতো তাতে বিপ্লবদার স্ক্রিপ্ট, গল্প বা সংলাপ থাকতই। অভিনয় তো ছিলই।" তিনি এদিন আরও জানান, "আমার একটা এভি আছে, জাতীয়, আন্তর্জাতিক লোকজনদের কাছে পাঠাতে হয়। সেটার অডিও পুরোটাই বিপ্লবদার করা। এই মানুষটার থেকে প্রচুর কিছু শিখেছি। আমি যখন সৃজিতের সুভাষ বসু করেছি, তখন ওঁর অনেক সাহায্য নিয়েছি।"
'মিঠিঝোরা' ধারাবাহিকে বিপ্লব দাশগুপ্তর সঙ্গে কাজ করেছিলেন আরাত্রিকা মাইতি। তিনি এদিন প্রয়াত অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "মুখের কোনও মিল নেই। চোখ দু'টো খোলা। কোনও মৃত্যুর সিন থাকলে কষ্ট পেতেন। বলতেন এটা করতে হবে! মিঠিঝোরা করতেন যখন সেই সময়ও ওঁর হাত, গোটা শরীর কাঁপতে।"
মৃত্যুকালে বিপ্লব দাশগুপ্তর বয়স হয়েছিল ৭৫। শুক্রবার গল্ফ ক্লাব রোডের নিজের বাসভবনেই এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। জানা গিয়েছে, স্নায়ুতন্ত্রের অটোইমিউন সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকবার বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। তবে গত তিন মাস ধরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বিপ্লববাবুর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, এদিন সকালেও নিজের হাতে তাঁকে প্রাতরাশ খাইয়েছিলেন। এরপর স্পঞ্জ করানোর সময় আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই শেষপর্যন্ত শিল্পী চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেন।















