প্রয়াত বিপ্লব দাশগুপ্ত। ২৯ এপ্রিল, শুক্রবার সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। এদিন তাঁকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান টলিউড। শোকপ্রকাশ করে কী লিখেলন ইমন চক্রবর্তী, সৃজিত মুখোপাধ্যায়? 

 

ইমন চক্রবর্তী এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'আমার ফ্রেন্ড, ফিলোসফার, গাইড চলে গেলেন। আমার কলকাতার অনুষ্ঠানের প্রথম সঙ্গী চলে গেলেন। আমার মন খারাপের ওষুধ চলে গেলেন। আমার সাপোর্ট সিস্টেম চলে গেলেন। জীবন আর কখনই আগের মতো হবে না।' 

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায় এদিন বিপ্লব দাশগুপ্তর একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, '২০০৯ সালে যখন একজন যুবক তাঁর কর্পোরেট জগতের কাজকে বিদায় জানিয়ে দুই চোখে স্বপ্ন নিয়ে, থিয়েটার-সিনেমা নিয়ে কাজ করবে বলে শহরে পা রাখল, তখন তুমিই তার পিছনে ছিলে ঢাল হয়ে। যখন কর্পোরেট ফান্ডিং নিয়ে করতে চলা আমার প্রথম নাটকের প্রোডাকশনের ঠিক আগে নায়ক নাটকটি ছেড়ে দিলেন তখন তুমি আমার ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে জুড়েছিল দুটো কথা বলে। ওর কথায়, উনি কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু অবাক হননি। আর দ্বিতীয় হল তিনি জানতেন, আমি আমার কাজের মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে জবাব দেব। তিনি যেমন সমালোচক ছিলেন, তেমনই উৎসাহ দিতেন। তুমি আমার সিনেমা, নাটক, স্বপ্নে বিশ্বাস করেছিলে আমার থেকেও বেশি। আমার কাছে তুমি বটের ছায়ার মতো ছিলে। সাবধানে যেও বিপ্লব দা।' 

 

বিপ্লব দাশগুপ্তর শেষ যাত্রায়, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হাজির ছিল টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ইমন চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, দীপাঞ্জন জ্যাক ভট্টাচার্য, জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরাত্রিকা মাইতি, প্রমুখকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। 

 

এদিন প্রয়াত অভিনেতার মেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "বিগত দুই বছর ধরে বাবা খুবই ভুগছিলেন। অনেকবারই হাসপাতালে গিয়েছেন, বাড়ি এসেছেন, আবার হাসপাতালে গিয়েছেন। একটা সুস্থ মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকলেন। বাবার যে মনের স্পিরিট সেটাও কমে যাচ্ছিল। একটা সময়ের পর মনে হচ্ছিল বাবার খোলটাই আছে, মানুষটা আর নেই। বাবা আজ সকালে চলে গেল, মনে হয় বাবা এখন যেখানেই আছে অনেক ভাল আছে। যে কষ্টটা পাচ্ছিল, সেটা আর পাচ্ছে না। হয়তো নতুন করে জন্ম নেবে। বাবার কষ্টের দিন শেষ, আমাদের শুরু।"