জীবন নাটকের যবনিকা পড়ল অকালেই। মারণরোগ মোটর নিউরোন ডিজিজ -এর সাথে তিন বছর ধরে অসম লড়াইয়ে হার মানলেন আইরিশ অভিনেতা ও লেখক মাইকেল প্যাট্রিক। গত ৮ এপ্রিল, বুধবার নর্দান আয়ারল্যান্ড হসপিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৩৫ বছর বয়সী এই শিল্পী। প্যাট্রিকের স্ত্রী নাওমি শিহান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
নাওমি শিহান তাঁর পোস্টে জানান, প্যাট্রিক গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ প্রথম এই গুরুতর স্নায়ু রোগে আক্রান্ত হন। ১০ দিন আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ সময়ে পাশে ছিলেন বন্ধু ও পরিজনরা। নাওমি লিখেছেন, "মিকের চলে যাওয়ায় আমাদের হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ও এমন একজন মানুষ ছিল যে কেবল অসুস্থতার সময়েই নয়, জীবনের প্রতিটি দিনে মানুষকে অনুপ্রাণিত করত।" প্যাট্রিকের প্রাণখোলা হাসি আর অফুরন্ত জীবনীশক্তির কথা স্মরণ করে নাওমি তাঁকে ‘টাইটান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank" rel="noopener">A post shared by Michael Patrick (@michaelpatrick314)
২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন প্যাট্রিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ‘ট্র্যাকিওস্টমি’ পদ্ধতির প্রয়োজন পড়ে, তখন তাঁর বন্ধুরা একটি তহবিল (গো ফান্ড মি) গঠন করেন। প্রায় এক লক্ষ পাউন্ড সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালবাসায় সেটি এক লক্ষ দশ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই অর্থ তাঁর চিকিৎসার নিবিড় পরিচর্যায় ব্যয় করা হয়।
চলতি বছরের শুরুতে প্যাট্রিক তাঁর শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বহু চিন্তাভাবনার পর তিনি আর ‘ট্র্যাকিওস্টমি’ করাতে চান না। স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবের কারণে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে সময় সীমিত বললেও, প্যাট্রিক প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।
বিদায়বেলায় প্যাট্রিকের প্রিয় একটি উক্তি তাঁর স্ত্রী শেয়ার করেছেন, যা এখন অনেকের মনে দাগ কাটছে - “পৃথিবীতে করার মতো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কিছু খাবার জোগাড় করা, একটু পানীয় এবং এমন একজনকে খুঁজে পাওয়া যে তোমাকে ভালবাসবে।” প্যাট্রিকের চলে যাওয়া কেবল বিনোদন জগতের ক্ষতি নয়, বরং এক অকুতোভয় যোদ্ধার প্রস্থান।