অভীক সরকারের গল্প অবলম্বনে সিরিজ তৈরি করতে চলেছেন পরমব্রত চ্যাটার্জি। হইচই-এ আসছে রহস্যময় ওয়েব সিরিজ 'রক্তফলক'। মুখ্য চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে শাশ্বত চ্যাটার্জি, অর্জুন চক্রবর্তী, কনীনিকা ব্যানার্জি ও মোহনা মাইতিকে। ১মে মুক্তি পাচ্ছে এই সিরিজ।

গল্প অনুযায়ী, তিতলি ও তার দুই বোন যখন তেনিয়া নামের এক মায়াবী কিন্তু নৃশংস পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে, তখন শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান। এই অনুসন্ধান কেবল নিখোঁজ মেয়েদের খোঁজে নয়, বরং ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়কে উন্মোচনের লড়াই। তান্ত্রিক পণ্ডিত আগমবাগীশ বুঝতে পারেন, এই মেয়েদের ভাগ্য এক হাজার বছর আগের সেই অসম্পূর্ণ ও নৃশংস আচারের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। তারপর কী হয়? দেখা যাবে গল্পে।

শাশ্বতকে দেখা যাবে 'আগমবাগীশ' হিসেবে। তিনি একজন তান্ত্রিক পণ্ডিত। আগমবাগীশ বিশ্বাস আর নিষিদ্ধ জ্ঞানের এক সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে আছেন। তার অন্তর্দৃষ্টি প্রখর; তিনি কর্মফলের বিচ্যুতি বা অশান্তি টের পান অনাহুত এবং হিংস্র কিছু দর্শনের মাধ্যমে। তিনি কোনও বীরত্বের নেশায় নয়, বরং নিয়তির টানে এই রহস্যে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানেন, কোনও এক প্রাচীন অশুভ শক্তি আবার জেগে উঠেছে।

অর্জুন চক্রবর্তীকে এখানে বিভিন্ন রূপে দেখা যাবে।' বজ্রকেতু', 'তেনিয়া' বা 'স্যাম' হিসেবে থাকবেন তিনি। তেনিয়া কোনও সাধারণ অপরাধী নয়। সে তার মায়াবী ব্যবহারের আড়ালে সে অল্পবয়সী মেয়েদের ফাঁদে ফেলে। গল্পের গভীরে জানা যায়, তেনিয়া আসলে কয়েক শতাব্দী ধরে চলা এক হিংস্র চক্রের পুর্নজন্ম। সে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে যে সে শয়তান হয়ে ওঠেনি, বরং সে বরাবরই অশুভ ছিল।

কনীনিকাকে দেখা যাবে 'মায়ারানি'র চরিত্রে।মায়ারানি এক প্রাচীন সত্যের রক্ষক এবং এমন একজন মা, যে নিজের সন্তানকে ঘিরেই এক আতঙ্কে দিন কাটায়। তেনিয়ার ছোটবেলার অস্বাভাবিক আচরণগুলো মায়ারানির কাছে ছিল আসন্ন কোনও বিপদের সংকেত। তিনি অন্ধ স্নেহে নয়, বরং বিশ্বকে এবং তার সন্তানকে ওই অভিশপ্ত ভবিতব্য থেকে বাঁচাতে মরিয়া এক নারী।

মোহনা মাইতি থাকবেন 'তিতলি' হিসেবে। আধুনিক ডিজিটাল জগতের দুনিয়ায় সে একজন আবেগপ্রবণ মেয়ে। অনলাইনে 'স্যাম'-এর ছদ্মবেশে থাকা তেনিয়ার মায়াজালে সে জড়িয়ে পড়ে। তার অগাধ বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাকে এবং তার বোনদের এক ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।


সিরিজ প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, "ভোগ-এর পর আমি অভীক সরকারের আরও একটি গল্পকে পর্দায় জীবন্ত করতে চেয়েছিলাম। 'রক্তফলক' এক অন্ধকার জগতকে তুলে ধরে, যা স্রেফ ভয় নয়, বরং মন্দের এক অনন্ত চক্রকে প্রতিফলিত করে। এর প্রাসঙ্গিকতা হল বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ার বাস্তবতা, যেখানে সহজেই মেয়েরা পাচারের শিকার হয়। মিথ এবং সমকালীন আতঙ্কের সংমিশ্রণে এই সিরিজ বিশ্বাস, ট্রমা এবং মানবিক নিয়ন্ত্রণের বাইরের শক্তিগুলোকে অন্বেষণ করে। ১ মে থেকে হইচই-তে এটি দেখা যাবে।"

শাশ্বত বলেন, "আগমবাগীশ অজানাকে খুঁজে বেড়ায় না, বরং অজানাই তাকে খুঁজে নেয়। যা সাধারণের চোখের আড়ালে, তা দেখতে পাওয়ার এক অদ্ভুত ভার সে বয়ে চলে। যা তাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিঃসঙ্গও করে দেয়। অলৌকিকতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনও পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং ভীষণ ব্যক্তিগত। রক্তফলক কেবল ভয়ের গল্প নয়, এটি অনিবার্য এক পরিণতির গল্প। আগমবাগীশ অতীত এবং বর্তমানের সেই সংঘাতের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।"

অর্জুন চক্রবর্তী বলেন, "এই চরিত্রটি খুব ভয়ঙ্কর, কারণ বাইরে থেকে তাকে একদম স্বাভাবিক মনে হয়। তার আকর্ষণই হল তার অস্ত্র। তেনিয়ার অন্ধকার কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা অনেক প্রাচীন ও গভীর। একজন মানুষ এবং তার ভিতরে থাকা এক অশুভ শক্তির দ্বৈত সত্তাকে ফুটিয়ে তোলাটা ছিল সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ। রক্তফলক দেখায় যে মন্দ সব সময় সতর্কবার্তা দিয়ে আসে না, অনেক সময় তা অতি পরিচিত রূপেই দেখা দেয়।"

কনীনিকার কথায়, "মায়ারানি এমন এক সত্যের ভার বয়ে চলেছেন যা কোনও মায়ের পক্ষেই সহ্য করা কঠিন। তার শক্তি অস্বীকারে নয়, বরং নিজের সন্তানের ভিতরের অন্ধকারকে মেনে নেওয়ার সাহসে। বাকিটা ১মে হইচই-তে রক্তফলক স্ট্রিমিং শুরু হলেই বোঝা যাবে।"

মোহনা মাইতি বলেন, "হইচই-এর সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। তিতলির যাত্রা হল ডিজিটাল দুনিয়ায় ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার এক মর্মান্তিক প্রতিফলন। যা ভালবাসা হিসেবে শুরু হয়, তা যে এমন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, যা তিতলি ভাবতেও পারেনি।"