বলিউডের ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে ফারাহ খানের জুড়ি মেলা ভার। যে কোনও বিষয়েই সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালবাসেন ‘ম্যায় হুঁ না’ খ্যাত এই পরিচালক। এবার নিজের ২২ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং স্বামী শিরিষ কুন্দরের সাম্প্রতিক লুক পরিবর্তন নিয়ে এক মজাদার মন্তব্য করে বসলেন তিনি। অভিনেতা-সঞ্চালক শেখর সুমনের একটি চ্যাট শো-তে এসে ফারাহর সেই এখন বি-টাউনের চর্চিত খবর।
কিছুদিন আগেই চলচ্চিত্র সম্পাদক ও পরিচালক শিরিষ কুন্দরের একটি নতুন লুক নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছিল। ৫২ বছর বয়সি শিরিষ তাঁর চিরচেনা লম্বা চুল কেটে, ক্লিন শেভড লুকে একেবারে ‘চকলেট বয়’ অবতারে হাজির হন। তাঁর এই আমূল মেকওভার দেখে নেটিজেনরা তো বটেই, খোদ ফারাহ খানও চমকে গিয়েছেন।
শো-তে হাসতে হাসতে ফারাহ জানান, শিরিষের নতুন হেয়ারস্টাইলের পর তিনি নাকি রাতে নিজের ঘরেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কোরিওগ্রাফারের কথায়, "আমার ছেলে (সিজার) আর শিরিষের উচ্চতা এখন এক। রাতে কেউ ঘরে ঢুকলে আমি বুঝতেই পারি না ওটা শিরিষ নাকি আমার ছেলে! যখন এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে, তখন বুঝতে পারি, আচ্ছা, এটা আমার ছেলে।"
মজার ছলে কথা শুরু করলেও, বিয়ের পর ভালবাসার সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, তা নিয়ে এক্কেবারে বাস্তবসম্মত কথা বলেছেন ফারাহ। শো-তে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, বিয়ের পর কেন বেশিরভাগ দম্পতির জীবন থেকে প্রেম হারিয়ে যায়? ফারাহ বাস্তববাদী উত্তর দেন। তিনি জানান, ডেটিং করার সময় কোনও কিছু পাওয়ার জন্য তীব্র ব্যাকুলতা থাকে। কিন্তু সেটা পেয়ে যাওয়ার পর তার মূল্য বা গুরুত্বের জায়গাটা বদলে যায়।
ফারাহ বলেন, "বিয়ের পর রোম্যান্স বা সেই পুরোনো উত্তেজনা হয়তো ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। আমি এখন শিরিষকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করি। ও একজন দারুণ বাবা, যে পুরো পরিবারকে আগলে রাখে। শিরিষ ছাড়া আমাদের সংসার অচল।"
২০০৪ সালে বিয়ে হয়েছিল ফারাহ ও শিরিষের। পরিচালক জানিয়েছেন, তাঁদের তিন সন্তান সিজার, ডিভা ও অ্যানিয়ার পড়াশোনা এবং বড় হয়ে ওঠার পেছনে শিরিষের অবদান সবচেয়ে বেশি। ফারাহ যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, শিরিষ তখন সন্তানদের কাউন্সেলর হিসেবে সময় দেন। তবে এর পাশাপাশি শিরিষ নিজের স্ক্রিপ্ট লেখা এবং প্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিনোদনের দুনিয়ায় যেখানে তারকাদের সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খবর নিত্যদিনের, সেখানে ফারাহ আর শিরিষের এই ২২ বছরের সফর এক অনন্য নজির। রোম্যান্স হারিয়ে গেলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব যে একটা সংসারকে টিকিয়ে রাখতে পারে, ফারাহর এই অকপট স্বীকারোক্তি যেন সেটাই মনে করিয়ে দিল।














