পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গতকাল উদযাপন করা হল বন্দেমাতরম্-এর ১৫০ বছর। ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল৷ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, দেবর্ষি ভট্টাচার্য, সেতারবাদক কল্যাণ মজুমদার, তবলাবাদক সৌমেন নন্দী, হারমোনিয়ামে ছিলেন জ্যোতির্ময় ব্যানার্জি।

অনুষ্ঠান শেষে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বললেন তবলাবাদক সৌমেন নন্দী৷ শিল্পী বলেন, "বিধানসভার স্পিকার উপস্থিত ছিলেন আমাদের পারফরম্যান্সের সময়৷ যে আন্তরিকতার সঙ্গে শিল্পীদের সম্বর্ধনা দেওয়া হল সেটা খুবই ভাল লেগেছে৷ বন্দেমাতরম্ গানটা দেশ রাগাশ্রয়ী। এই অনুষ্ঠান যেহেতু বন্দেমাতরম্ এবং দেশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তাই দেশ রাগের উপরই অনুষ্ঠান করেছি৷ আলাপ, ভজন, স্ত্রোত্র আর দেশ রাগের উপর তারানা করেছি। একটা রাম ভজন গাওয়া হয়েছে, 'পায়ো জি ম্যায়নে রাম রতন ধন শ্যাম'। তারানার সঙ্গে সেতার, তবলা হারমোনিয়াম সবকিছু একসঙ্গে সওয়াল জবাব করলাম সকলে মিলে৷ দেশ রাগ বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ অনুষ্ঠানটা দেশমাতৃকার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের৷"

আজকাল ডট ইন-কে কণ্ঠশিল্পী দেবর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা আইটিসি সংগীত রিসার্চ একাডেমির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করেছি৷ আমাদের বলা হয়েছিল বন্দেমাতরম্-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠান, তাই দেশাত্মবোধক ভাবনার আধারে অনুষ্ঠান করতে৷ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল আমাদের কেমনভাবে আমরা অনুষ্ঠানটা সাজাব সেই বিষয়। আমাদের যে কম্পোজিশনগুলো ছিল সেটা দেশ রাগের উপর ভিত্তি করে৷ যেহেতু বন্দেমাতরম্- এর ১৫০ বছর, তো এই উপলক্ষে দেশ রাগের উপরে আমরা ধ্রুপদী সঙ্গীতের মাধ্যমে দেশাত্মবোধকে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি৷ আমার নিজের কম্পোজিশন ছিল একটা৷ তারপরে একটা ভজন ছিল। আর একটা তারানা ছিল। সম্পূর্ণ সুরসৃষ্টি দেশ রাগের আধারে৷ দর্শকরা সকলেই মন দিয়ে শুনছিলেন, মন্ত্রীসভার অনেকের সঙ্গে কথা হল। ভীষণ ভাল লেগেছে৷"

নতুন সরকারের কাছে শিল্পী হিসাবে কী প্রত্যাশা, জানতে চেয়েছিল আজকাল ডট ইন৷ দেবর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, "দেখুন একটা সময় বাংলাই ছিল কালচারাল ক্যাপিটাল (সংস্কৃতির পীঠস্থান)। বাংলা থেকেই ক্লাসিক্যাল মিউজিকের চর্চা, প্রসার। আগেকার দিনের উস্তাদ যাঁরা আসতেন বা পণ্ডিত যাঁরা আসতেন তাঁরা কলকাতায় গানবাজনা করে প্রশংসিত হলে তখন সব জায়গায় নাম হত, কলকাতার সংস্কৃতির এতটাই গুরুত্ব ছিল৷ কারণ কলকাতার সঙ্গীতশিল্পীদের যে শিল্পবোধ মেধা রয়েছে সেটা ভারতবর্ষে আর কোথাও নেই বলেই আমার মনে হয়। মহারাষ্ট্রের কিছু জায়গায় আছে কিন্তু বাংলা হল এর পীঠস্থান। নতুন সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা যে শিল্প সংস্কৃতির সেই সোনালী দিন যদি ফিরিয়ে আনা যায়৷ বাংলা যেন শিল্প সংস্কৃতি জগতে সেরা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিল্পীদের উত্থান হোক৷ শিল্প সংস্কৃতি চর্চার আদর্শ পরিবেশটা ফইরে পাওয়ার প্রত্যাশাই আছে নতুন সরকারের কাছে৷"














