শুক্রবার ১৩ মার্চ করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্ক অর্থাৎ বইমেলা প্রাঙ্গণে শিলাজিৎ মজুমদারের শো ছিল। অনুষ্ঠান প্রায় শেষের পথে যখন তখনই ঘটে বিপত্তি। আঙুল দেখিয়ে 'খারাপ ইঙ্গিত' করে শিলাজিৎ মজুমদারকে মঞ্চ ছাড়ার নির্দেশ দেন এক পুলিশকর্তা। সেটা মুখ বুজে সহ্য করেননি গায়ক। দেন পাল্টা জবাব। তাঁর সেই ভিডিও বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল? খোঁজ নিল আজকাল ডট ইন। 

অনুষ্ঠানে কী ঘটেছিল জানতে চাইলে শিলাজিৎ মজুমদার বলেন, "গত পরশু ক্যাকটাস এবং লক্ষ্মীছাড়ার শো ছিল, সেটা বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। গতকাল আমার শো ছিল। সেই শোতে ক্যাকটাসকে অ্যাকমোডেট করা হয়। আমার সময় ছিল সাড়ে ৭ টায়। কিন্তু আমায় ওদের ঘণ্টা দু'য়েক সময় দিতে হয়। আমি সাড়ে ৯ টায় স্টেজ পাই। আমাদের আয়োজকরা বলেন ১১ টা অবধি সময় আছে, শো করুন। ১১ টা বাজতে পাঁচ তখন, আমাদের শেষ গানটাই গাইছি, সেই সময় একটা পুলিশের গাড়ি এল। ইউনিফর্ম পরা একজন ভদ্রলোক নামলেন সেখান থেকে। কোনও সৌজন্যবোধ তো ছিলই না, সেটা ছেড়েই দিলাম, হাত দেখিয়ে 'নেমে যান নেমে যান' করতে থাকেন। ওঁর ভঙ্গিটা আমার অত্যন্ত বিরক্তিকর লাগে, কারণ আমি এমন কোনও অপরাধ করিনি। ১১ টা অবধি অনুমতি ছিল, ১১ টা বাজতে পাঁচে এসে সেটা ওঁরা একটু ভাল ভাবে বলতেই পারতেন। আমাদের যথেষ্ট সেন্স আছে। যে সময় আমার বাড়ি ফিরে আসার কথা, তখনও আমি ওখানে অপেক্ষা করে শো করছি, এই বয়সে এসেও। উনি যে ভঙ্গিতে নামার কথা বলেন, সেই কারণে আমি ওঁকে কথাটা বলি।" গায়কের আরও সংযোজন, "উনি আমায় যেভাবে আঙুল দেখিয়ে নেমে যেতে বলছিলেন, যেন আমি কোনও গুন্ডা বা অপরাধী। এরপর আমি নেমে যাই, আর গান গাইনি।" 

এই ঘটনা বাংলার বুকে নতুন নয়। সাম্প্রতিক অতীতে কখনও আয়োজক, কখনও শ্রোতাদের থেকে অভব্য আচরণ পেয়েছেন শিল্পীরা। তালিকায় ইমন চক্রবর্তী থেকে লগ্নজিতা চক্রবর্তী, মিমি চক্রবর্তীরা রয়েছেন। বারবার কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে? এই বিষয়ে শিলাজিৎ বলেন, "সহিষ্ণুতা কমছে। অনেক সময় টেকনিক্যাল গ্লিচ বা কিছুর জন্য বহু জায়গায় আমাদের শোতে দেরি করে উঠতে হয়। এটা মেনে নিতে হয়, কিছু করার থাকে না। আগের দিন বৃষ্টিতে অনুষ্ঠানটা হয়নি, সেটা গতকাল একটা ব্যান্ডকে রেখেছে, সেটা কি আমি বলতাম যে অ্যাডজাস্ট করতে পারব না? এটা বলা যায়? এটা সম্ভব না, ওরা আমার কলিগ। আর তার থেকে বড় কথা আমরা সময় মেনেই চলছিলাম। এই অসভ্যতার কোনও মানে হয় না। এটা যদি আমরা ১১.৩০ টা অবধি শো করতাম, কথা শুনতাম না, তাহলে একরকম হতো। আমাদেরও মাথায় থাকে যে বহু ছেলেমেয়েরা জেলা থেকে আসে শো দেখতে, ওদের জন্য তাড়াতাড়ি শো শেষ করার কথা ভাবি। আর এই পুলিশের ভদ্রলোকটির কোনও সৌজন্যবোধ নেই, খুবই অসম্মানিত বোধ করেছি। সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষা দিয়েই তো পুলিশের চাকরি পেয়েছেন। কোনও শিল্পীকে এভাবে মঞ্চ থেকে নামানো যায়? সবের তো একটা ডেকরাম আছে।"

এদিন 'এক্স=প্রেম' -এর গায়কের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আপনি আধ ঘণ্টা আগে এলে, আধ ঘণ্টা আগে বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু আপনি এভাবে আঙুল দেখিয়ে আমায় নামিয়ে দিতে পারেন না। আপনি বিরাট ক্ষমতাবান হতে পারেন, কিন্তু এটা আপনি পারেন না। আমাকে এভাবে অসম্মান করতে পারেন না। আপনারা এর থেকে অনেক বেশি কিছু সহ্য করেন। অনেক বেশি আওয়াজ সহ্য করেন বাধ্য হয়ে। পারেন না স্যার এটা। সামনে ভোটের সময় বোমগুলো দেখব.... আপনাদের থেকে আয়োজকরা ১১ টা অবধি সময় চেয়েছিল। চেয়েছিলে তো তোমরা? ১১ টা বেজে গেছে, আমি নেমে যাচ্ছি। কিন্তু এভাবে নামিয়ে দেবেন না। ৩২ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে গান গাইছি। আপনি আমায় চিনতে না পারেন, কিন্তু এরা চেনে।"

শিলাজিতের অনুরাগীরা তো বটেই, নেটপাড়ার একটা বড় অংশ এই ঘটনায় গায়ককেই সমর্থন করেছেন।