টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ বিশ্বাসের বিপরীতে বিজেপির হয়ে লড়বেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। পদ্মশিবির থেকে ভোটের টিকিট পেয়েই কী প্রতিক্রিয়া বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর? 

প্রার্থী হওয়ার পরই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আজকাল ডট ইনের মুখোমুখি হন পাপিয়া অধিকারী। বলেন, "মানুষের মনের মধ্যে এই উচ্ছ্বাস প্রোথিত হয়ে আছে, কেমন করে নরেন্দ্র মোদি দাদাকে এখানে আনা যায় সেটার জন্য। উনি বলেছেন, বাংলার সমস্ত মেয়েরা ওঁর বোন। তাই আমাদের নরেন্দ্র মোদি দাদাকে কী করে জেতানো যায়, সেটার চেষ্টা করব। লড়াই করব।" 

তাঁর বক্তব্যে এদিন উঠে আসে রাজ্যের নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গ। পাপিয়া বলেন, "নারী সুরক্ষা তো একদম তলানিতে এসে ঠেকেছে।" টালিগঞ্জে তাঁর লক্ষ্য কী থাকবে জানতে চাইলে পাপিয়া অধিকারী বলেন, "আমি বাংলার মেয়ে, খালি টালিগঞ্জ নয়, বাংলায় যেখানেই দেখব দুর্নীতি, চুরি, অন্যায় সেখানেই সেটাকে সমূলে উৎখাত করব।" 

প্রসঙ্গত, ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে দ্বিতীয় দফায় ১১১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল সম্প্রতি।  এর আগে প্রথম দফায় ১৪৪ জনের নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। অভিনেতা হিরণ চ্যাটার্জি প্রথম দফায় প্রার্থীতালিকায় না থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে হিরণ টিকিট পাবেন না। সদ্য হিরণ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার সঙ্গে চলছে আইনি লড়াই। পারিবারিক সমস্যার কারণে হিরণকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে না এমন গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সেই জল্পনা মিথ্যে করে অভিনেতা শ্যামপুর থেকে টিকিট পেলেন। সেখানে তাঁর বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করবেন শশী পাঁজা। অন্যদিকে সোনারপুর দক্ষিণ থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেন রূপা গাঙ্গুলি। রূপার বিপরীতে তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র।

অন্যদিকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়ে আজকাল ডট ইনকে তাঁর নির্বাচনী কৌশল প্রসঙ্গে বলেন, "নির্বাচনী কৌশল ইত্যাদি ঠিক বুঝি না। জেতাটাও আমার কাছে মনে হয় যেন একটা দায়িত্ব। প্রার্থী হওয়াটাও একটা দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্বটুকু পালন করব৷ মানুষের কাছে যাব।" এই সময় পশ্চিমবঙ্গে নারী সুরক্ষা নিয়ে নানা কথা নানা অভিযোগ উঠে আসছে। এই বিষয় রূপার অভিমত এবং আগামী পদক্ষেপ কী হতে পারে, জানতে চেয়েছিল আজকাল ডট ইন। রূপা বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বেঁচে থাকাটাই  একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নারী কেন? আজকে পুরুষরাই কি সুরক্ষিত? যে কোনও পার্টির হোক, মতের অমিল হলে তাকে কুপিয়ে কাটতে হচ্ছে? রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। বিরোধিতা হবে, ঝগড়া হবে, কিন্তু সেই বিবাদ এমন জায়গায় পৌঁছোবে যে তাকে হাত পা কেটে ফেলতে হবে!  এটা কি কোনও সভ্য সমাজে হতে পারে? এতে কি বিজেপির মানুষ খুশি হয়ে যাবে তৃণমূলের লোক মারা গেছে ভেবে নাকি সিপিএম আনন্দ পাবে যে একটা ভোট কমল, কোনটা? এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ থেকে মানুষ মুক্তি চায়, মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়, আমি সেই বার্তাই মানুষকে দেব।"