তাঁর লেখা একটি বইয়ের সামনে কেঁপে উঠেছিল গোটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। সেই লেখনির ধার ছিল তলোয়ারের থেকেও বেশি। কার কোন লেখার কথা বলছি? শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবি' বইটির কথা। কথাসাহিত্যিক যেন তাঁর এই বইতে দিয়েছিলেন বিদ্রোহের মন্ত্র। ছিল স্বাধীনতার আহ্বান। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সেই বইকে। এবার এ হেন পথের দাবি এবং সেই বই নিয়ে চলা আন্দোলন উঠে আসবে বড়পর্দায়। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আগামী ছবি 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। এই ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকার কথা ছিল সোহিনী সরকারের। কিন্তু জানা যাচ্ছে, তাঁকে দেখা যাবে না সৃজিতের আগামী ছবিতে। তাহলে কে জায়গা নিচ্ছেন তাঁর? সূত্রের খবর মিমি চক্রবর্তীকে দেখা যাবে। 

গুঞ্জন অনুযায়ী সোহিনী সরকারের জায়গায় মিমি চক্রবর্তীকে দেখা যাবে 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র' ছবিতে। এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে আজকাল ডট ইন-এর তরফে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরা ফোনে অধরা। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় এই ছবির ঘোষণা করেন পরিচালক। তারপর দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। 

আগামী বছর মুক্তি পাবে 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। প্রথমে ঠিক হয়েছিল যে ২০২৬ সালের মে মাসে মুক্তি পাবে সৃজিতের এই ছবি। তবে স্ক্রিনিং কমিটির নিয়ম অনুযায়ী তা হচ্ছে না। তার পরিবর্তে 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র' কবে মুক্তি পাবে সেটা এখনও সুনিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। জানুয়ারি মাস থেকে শুটিং শুরু হওয়ার কথা। 

সূত্রের খবর টোটা রায়চৌধুরীকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় দেখা যাবে। আবির চট্টোপাধ্যায় থাকবেন সব্যসাচীর ভূমিকায়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে রুদ্রনীল ঘোষ, সত্যম ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, দিব্যাণী মণ্ডল, প্রমুখকে। এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'পথে দাবি' নিয়ে বাংলায় আগেও ছবি হয়েছে। ১৯৭৭ সালে পীযূষ বসু পরিচালনা করেছিলেন 'সব্যসাচী'। তাতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন উত্তম কুমার।

অন্যদিকে বড়দিনের ছুটিতে মুক্তি পাচ্ছে 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে শ্রীচৈতন্যদেবের অন্তর্ধান রহস্য থেকে শুরু করে বিনোদিনীর 'চৈতন্যলীলা' এবং বর্তমান সময়, এই তিন সময়কালকে তুলে ধরবেন পরিচালক। চৈতন্যদেবের ভূমিকায় থাকবেন দিব্যজ্যোতি দত্ত। বিনোদিনী হয়ে ধরা দেবেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে ইশা সাহা, ব্রাত্য বসু, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, প্রমুখকে।