একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবির পরিচালক আবার পরিচালনায়। প্ল্যাটফর্ম ৮-এর সিরিজেই হরনাথ চক্রবর্তীর ‘ইচ্ছেপূরণ’? নতুন কাজ, বাংলা ছবি, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সপাট পরিচালক, শুনলেন শ্যামশ্রী সাহা।
‘ইচ্ছেপূরণ’-এর গল্পটাই কি আপনাকে আবার টেনে আনল?
আধুনিক যুগের একটা ইয়ং ছেলের জার্নি, পরিবার নিয়ে তার বেঁচে থাকার লড়াই, যন্ত্রণা পেরিয়ে ছেলেটির দেখা স্বপ্ন কি আদৌ পূরণ হবে? এটাই এই গল্পের কাঠামো।সব পরিবারেই এরকম ঘটনা থাকে, এখন ওটিটিতে থ্রিলার, খুন, রক্তারক্তির গল্পই বেশি, এই গল্পটা সাধারণ, সুস্থ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। সেইজন্যই তো এই কাজটা করেছি। একটা সুন্দর গল্প বলার চেষ্টা করেছি।আমার মনে হয় দর্শকের ভাল লাগবে। এতদিন তো দর্শকের জন্যই কাজ করেছি, আবার করলাম।
যাদের নিয়ে কাজ করলেন, এই প্রজন্মের অভিনেতা, কেমন দেখলেন?
খুব ভাল। আমি ওদের সঙ্গে কাজ করে খুব হ্যাপি। দেবরাজ, ঈশানী, কোরক, শঙ্কর সবাই খুব ভাল।
একের পর এক সুপারহিট ছবির পরিচালক আপনি, এখন ওটিটি-র যুগ এই পরিবর্তন কীভাবে দেখছেন?
তিন-চারটে জেনারেশন কাজ করলাম, সিস্টেমের প্রচুর পরিবর্তন হয়েছে, সিনেমার সংখ্যা,কাজ করার পরিধি কমে গিয়েছে।নতুন ধারা এখন ওটিটি, দর্শক হলে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে না, বাড়িতে বসে বা মোবাইলে সিনেমা, সিরিজ দেখছে। দর্শকের যদি ভাল লাগে কাজ করতে হবে। তবে সিনেমাও করব।
দর্শক সিনেমাহলে যাচ্ছে না কেন, শুধুই ওটিটিতে দেখতে পাচ্ছে বলে?
ভাল ছবি না হলে কেন দেখতে যাবে? ছবি তো ভাল হচ্ছে না। গল্প নেই, মাথামু্ণ্ডু নেই, সিনেমার প্রতি ভালবাসা বা প্যাশন নেই, সেইরকম প্রোডিউসারও এখন নেই। এখন কোনওরকমে একটা ব্যবসা করলেই হল, বিক্রি করতে হবে। এখন তো ডিজিটালের যুগ, অনেক রাস্তা আছে বেচার।

অন্যধারার ছবিও তো হচ্ছে?
না কমার্শিয়াল, না আর্ট। মাঝামাঝি একটা ধারার ছবি হচ্ছে। ডিজিটালের যুগে এখন তো সবাই খুব সহজেই ডিরেক্টর হয়ে যাচ্ছে। সিনেমার নামও তো কেমন যেন। ইন্টেলেকচুয়াল ছবি হোক, কিন্তু সাধারণ দর্শকের কথা ভেবে ছবি কোথায় হচ্ছে? জগাখিচুড়ি মার্কা ছবি হচ্ছে।
এখন ছবিতে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’, কী বলবেন?
এসব খেলা আমরা অনেক খেলেছি। চারটে ইংরিজি কথা বলে দিলেই বড় ডিরেক্টর হওয়া যায় না। আমার ছবিতেও ২০০১-এ ক্যানন ব্লাস্টিং, গাড়ি ওড়ানো দেখিয়েছি। এখন তো সব এআই আর গ্রাফিক্সে করছে। সেই ২০০১-এ ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ দেখিয়ে দিয়েছি। ‘সংঘর্ষ’, ‘প্রতিবাদ’, ‘তুলকালাম’-এর মতো ছবি করে দেখাক। আমার গল্পে কমেডি, রোম্যান্স, ইমোশন, অ্যাকশন-এর সঙ্গে একটা মেসেজও থাকত।এখনকার পরিচালকরা এরকম ছবি করার কথা ভাবছে না কেন? আমরা তো পুরনো দিনের পরিচালকদের কাজ দেখেই শিখেছি।
এখন দেখে না?
দেখে কিনা তারাই জানে।
আপনি তো এখনকার পরিচালকদের কাজ দেখেন, অনেক প্রিমিয়ারে আপনাকে দেখা যায়
ভাল-মন্দ সব ছবি দেখতে হয়।বাংলা ছবির দুরবস্থার কারণ, ভাল ছবি তৈরি হচ্ছে না। এখনকার ছবি দেখা যায় না। চিত্রনাট্য, সংলাপ, গান দুর্বল। গত পাঁচ বছরে কোন গান হিট করেছে আমাকে দেখান। পঁচিশ বছর পরেও ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এর গান হিট। ‘প্রজাপতি-২’ সবাই দেখছে। হলে হইহই করছে। ‘স্বার্থপর’ ও ‘বিজয়নগরের হীরে’ ভাল হয়েছে। খুব ভাল একটা ছবি চলছে ‘লক্ষ্মীর পা’। নন্দনে চলছে। সহজ সরল গল্প। দর্শক দেখছে। কিন্তু প্রচার নেই।
অভাবটা কোথায়?
প্রযোজক-পরিচালকের অভাব। ভাল সুরকার, গীতিকার আছে। বাজার করার লোক আর রাঁধুনি নেই। এখন একটা ছবি সাতদিন চললে সাকসেস পার্টি হয়, তারপর প্রোডিউসার জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের ছবি ছমাস-একবছর চলত। তখন সিনেমাটা প্রোডিউসাররাও বুঝতেন।
এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ার সাপোর্টও আছে?
সেখানে তো রিল তৈরি হয়। অশ্লীল ভিডিও করে নিজেদের ইমেজ নষ্ট করছে। সবাই তাই দেখতে ব্যস্ত। এইভাবে নোংরামি করে পয়সা রোজগার লাভটা কী? আর ফেসবুকের দৌলতে নিজেদের ঢাক নিজেরাই পেটাচ্ছে।
আপনার ছবিতে যাঁদের ডেবিউ, তাঁদের ছবি দেখেন?
কত নাম। কে নেই, অনেকেই ভাল কাজ করছে।
এখন ছবি করলে কাস্টিং-এ কাদের নাম প্রথমেই ভাববেন? রঞ্জিত মল্লিক তো থাকবেই?
হ্যাঁ থাকবেই। ছবি করলে কমার্শিয়াল ছবিই করব। সবথেকে বড় কথা একটা মেসেজ থাকবে। তবে প্রোডিউসার যদি বলে দশদিনে ছবি করতে হবে...
এখন তো তাই হচ্ছে
তাহলে ছবি করব না। ওটিটিতে সিরিজ বানাব। সিনেমা তো দশদিনে করতে পারব না।
শুধু ওটিটি করে কি হরনাথ চক্রবর্তীর মনের খিদে মিটবে?
কেন মিটবে না, ওটাও তো সিনেমা। তবে একটা পরিকল্পনা আছে। সেটা যদি সাকসেস হয়, বাংলা ছবিকে আবার তুলে আনা যাবে। সিনেমাহল তৈরি করতে হবে।
আপনি মিনি সিনেমার কথা বলছেন?
হ্যাঁ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বে তৈরি হচ্ছে, ওখানে আমিও আছি। পাড়ায় পাড়ায় ৪২ আসনের সিনেমাহল তৈরি হবে। সবাই হাঁটতে হাঁটতে হলে গিয়ে ছবি দেখবে। যে ছবিগুলো ভাল, কিন্তু হল পাচ্ছে না, সেই ছবিগুলো দর্শকের কাছে পৌঁছবে। খারাপ ছবিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
















