চলতি বছরের একদম গোড়ার দিকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সকলকে চমকে দেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। নিজেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বেনারসের ঘাটে ঋতিকার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার ছবি। এরপরই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানান তাঁদের আইনত বিচ্ছেদ হয়নি। তিনি জানতেন না এই বিয়ে বা সম্পর্কের কথা। হিরণের পোস্ট দেখেই জানতে পারেন। এরপর তিনি আইনের দ্বারস্থ হন।

২০২৬ সালে শ্যামপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সদ্যই তিনি তাঁর মনোয়ন জমা দিয়েছেন। সেখানে স্ত্রীর নামের জায়গায় অনিন্দিতার নাম রয়েছে যদিও সঙ্গে সেপারেটেড লেখা, ঋতিকার নয়। এরপরই অনিন্দিতা সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন স্বামী এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে কটাক্ষ  করে। আজকাল ডট ইনের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমাদের এখানে সমাজব্যবস্থা, আইন যেভাবে চলে সেটার কোনও মিলমিশ নেই আর কী! প্রথমে বলা হয় যে আইনত বিবাহিত হলে আরও একজনের সঙ্গে থাকা যায় না। মনোনয়ন পত্রে আইনত বিবাহিত লিখেছে, আবার এতদিন ধরে অন্য একজনের সঙ্গে রয়েছে। মেয়েটা তো নিজেই এক জায়গায় লিখেছে 'আমরা পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে আছি'।" তাঁর আরও সংযোজন, "পুরোটাই আইনত অপরাধ। অপরাধী একজন লোকের কিছুই হয় না আমাদের সমাজে। ভুক্তভোগী তো আমি আর আমার মেয়ে। আমরা সমাজের কাছে এত লাঞ্ছিত। সমাজ তো ছেড়ে দিন, আমাদের নিজেদের যে মানসিক যন্ত্রণা, তার তো কোনও ভাষা হয় না। সেটা কেবল আমরাই জানি। এখানে সব অপরাধ মুকুব হয়ে যায়। এটা একটা প্রকট উদাহরণ।" 

অনিন্দিতা বা হিরণ, কেউ কি ইতিমধ্যেই ডিভোর্স ফাইল করেছেন? কারণ নমিনেশনে অনিন্দিতার নাম থাকলেও, তার পাশে বিচ্ছিন্ন (সেপারেটেড) লেখা। এই বিষয়ে অনিন্দিতার জবাব, "সেপারেটেড লেখা যায় না, সেপারেশন আইনত হতে হয়। নোটিশ জারি করতে হয়। তবে ওটাকে মানা হয়। এটা ওই মুখে মুখে বলা কথার মতো। এটার আদতে কোনও মূল্য নেই। আবার লিখলে কিছু যায়ও আসে না। তাই লিগ্যালি ম্যারেড লিখেছে, কিন্তু লিগ্যালি সেপারেটেড লিখতে পারেনি।"

হিরণের মনোনয়ন পত্র প্রমাণ করে দিল অনিন্দিতার দাবি ঠিক। আইনত বিচ্ছেদ হয়নি তাঁদের। এই বিষয়ে তিনি জোর গলায় বলেন, "আমি জীবনে কখনও মিথ্যে বলিনি। আমার এতটাই সাহস আছে যে আমার মিথ্যে বলার দরকার লাগে না। আমি অসম্মানের জীবনযাপন করি না যে মিথ্যে বলতে হবে।" 

আগে একবার আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন, অভিযোগ করেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এবার কি আরও একবার সেই পথে হাঁটবেন? খোলসা না করলেও অনিন্দিতা বলেন, "হ্যাঁ, আমার সব ভাবা আছে। খুব শীঘ্রই সব জানতে পারবেন।"