দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন ইমরান হাশমি। তবু ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটা যেন কিছুতেই তাঁর পিছু ছাড়ে না। কেরিয়ারের পরতে পরতে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন তিনি। তবু মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে একটাই প্রসঙ্গ, তাঁর শুরুর দিকের পরপর সব ছবিতেই চুম্বন দৃশ্য। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ‘সিরিয়াল কিসার’ ইমেজ নিয়েই খোলাখুলি কথা বলেছেন ইমরান। অকপটে স্বীকার করেছেন, এই তকমাটাকে তিনি নিজেও “যতটা সম্ভব ততটা ব্যবহার করেছিলেন”।
ইমরান মানেন, কেরিয়ারের একটা বড় অংশে তাঁকে ‘ব্যাড বয় রোম্যান্টিক হিরো’ ইমেজেই আটকে ফেলা হয়েছিল। তবে তাঁর মতে, বিষয়টা শুধুই তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেনি। “এটা শুধু আমার সঙ্গে হয়নি। পশ্চিমের ইন্ডাস্ট্রিতেও এমন বহু উদাহরণ আছে। কমেডি অভিনেতারা অনেক সময় সিরিয়াস চরিত্রে ঢুকতে সমস্যায় পড়েন। জিম ক্যারির কথাই ধরুন। মানুষ আপনাকে একটা নির্দিষ্ট খাঁচায় পুরে ফেলতে ভালবাসে,” বলছেন ইমরান।
২০০৩ সালে ফুটপাথ দিয়ে অভিনয়ে হাতেখড়ি হলেও, ২০০৪-এর মার্ডার ছবিই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তাঁর অনস্ক্রিন চুম্বন তখন শিরোনামে ঝড় তোলে। এরপর একের পর এক থ্রিলারে তাঁর ‘ব্যাড বয়’ ভাবমূর্তি আর সাহসী দৃশ্যগুলোকে সামনে রেখেই প্রচার চলতে থাকে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমা। ইমরান আজ আর তা অস্বীকার করেন না, বরং মানেন, সেই ইমেজ তাঁকে বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দিয়েছিল। “ওগুলো হিট হয়েছিল। আমরাও সেই ইমেজটাকে পুরোপুরি ব্যবহার করেছি। মার্কেটিংয়েও সেটাই তুলে ধরা হয়েছিল। মিডিয়াও এতে শামিল ছিল,” বলছেন তিনি।
তবে দীর্ঘদিন একই ধরনের চরিত্র করার পর একটা জায়গায় এসে নিজেই থামার সিদ্ধান্ত নেন ইমরান। কারণ, দর্শক বদলায়। “প্রায় ১০ থেকে ১৪ বছর পর নতুন প্রজন্ম প্রেক্ষাগৃহে আসে। তাদের জন্য নিজেকে নতুন করে তৈরি করা জরুরি। প্রত্যেকটা ইমেজ, প্রত্যেকটা চরিত্র একসময় স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে যায়। আপনি যতটা পারেন, ততটাই রস বের করতে পারেন। আমি সেটা পুরোপুরি করে ফেলেছিলাম। তাই বদলটা দরকার ছিল,” স্পষ্ট ইমরানের।
এই বদলের ফলেই জন্নত-এর মতো রোম্যান্টিক চরিত্র, আবার 'আওয়ারাপন' বা 'সাংহাই'-এর মতো সম্পূর্ণ নন-রোম্যান্টিক, চরিত্রনির্ভর ছবিতে দেখা যায় তাঁকে। তবু ইমরান মানেন, এত বছর পরেও চুম্বন প্রসঙ্গ তাঁকে পিছু ছাড়ে না। “যখন আপনার ইমেজ এতটা শক্ত হয়, বিশেষ করে ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে, মানুষ সেটাকে আঁকড়ে ধরে রাখে। সেদিনও এক সম্মেলনে আবার সেই প্রশ্ন এল। এটাই ভারত। এখনও বিষয়টা নিয়ে এক ধরনের অবসেশন আছে,” হেসে বলেন তিনি।
ইমরানের মতে, এই খাঁচা ভাঙার একটাই রাস্তা-বহুমুখী হওয়া। “আপনাকে সামনে থেকে খেলতে হবে। সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমন কাজ করতে হবে, যাতে দর্শক দেখতে পায় আপনি আর কী কী করতে পারেন,” বলছেন অভিনেতা।
বর্তমানে নীরজ পাণ্ডের ওয়েব সিরিজ টাস্কারী-তে এক সৎ কাস্টমস অফিসারের ভূমিকায় দেখা গেছে ইমরানকে। শরদ কেলকর ও জ়োয়া আফরোজ অভিনীত এই সিরিজটি ১৯ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েই বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা নন-ইংরেজি শো হয়ে ওঠে।
‘সিরিয়াল কিসার’ তকমা আজও হয়তো তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে আছে। কিন্তু ইমরান হাশমির কেরিয়ার বলছে ইমেজ বদলানো যায়, যদি সাহস থাকে নিজের সীমা ভাঙার।
