গর্ভবতী করলেই ১০ লক্ষ! ফ্রি সেক্স আর টাকার লোভে সর্বস্বান্ত বহু মানুষ....
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ : ৪৯
শেয়ার করুন
1
9
ফ্রি সেক্স, সঙ্গে ১০ লাখ টাকা—শুনতে অবিশ্বাস্য, এমনকি হাস্যকরও। কিন্তু এই ‘হাস্যকর’ প্রস্তাবকেই হাতিয়ার করে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল একটি সাইবার প্রতারণা চক্র। নাম দেওয়া হয়েছিল—‘অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব’। শেষ পর্যন্ত বিহারের নওয়াদা জেলায় এই চক্রের পর্দাফাঁস করেছে সাইবার পুলিশ।
2
9
এই প্রতারণার মূল কৌশল ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়া। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরে বেড়াত এমন পোস্ট—“সন্তানহীন মহিলাকে গর্ভবতী করুন, পুরস্কার ১০ লাখ টাকা”, “প্লেবয় সার্ভিস”, “সহজ শর্তে লোন—ধনী ফাইন্যান্স, এসবিআই চিপ লোন” ইত্যাদি। উদ্দেশ্য একটাই—লোভ দেখিয়ে শিকার ধরা।
3
9
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা দাবি করত যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন সব দম্পতি বা পরিবার রয়েছে, যারা সন্তানহীন। তাঁদের হয়ে পুরুষদের দিয়ে গর্ভধারণ করালে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে। এমনকি “কাজে ব্যর্থ হলেও” নাকি অর্ধেক টাকা নিশ্চিত! সঙ্গে থাকত ‘ফ্রি সেক্স’-এর প্রলোভন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পাঠানো হত আকর্ষণীয় মহিলা মডেলদের ছবি।
4
9
কিন্তু এখানেই ছিল আসল ফাঁদ। আগ্রহ দেখালেই শুরু হত একের পর এক টাকা আদায়ের পালা—রেজিস্ট্রেশন ফি, হোটেল বুকিং চার্জ, মেডিক্যাল খরচ, সিকিউরিটি ডিপোজিট—কারণ সব কিছুরই নাকি “প্রসেসিং ফি” লাগে। কেউ একবার টাকা দিলে, তার পরে চাপ বাড়ত আরও। যতক্ষণ না বোঝা যাচ্ছে যে পুরো বিষয়টাই একটি সাজানো নাটক।
5
9
এই প্রতারণায় বহু মানুষ তাঁদের সঞ্চিত টাকা হারিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল—অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারিত ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে যাননি। সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং নিজের পরিচিত মহলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা চুপ করে গিয়েছেন। এই নীরবতাকেই পুঁজি করে চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
6
9
শেষ পর্যন্ত নওয়াদা সাইবার পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) অভিযান চালিয়ে নওয়াদার বাসিন্দা রঞ্জন কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় এক নাবালককেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে, যেগুলি ব্যবহার করেই এই প্রতারণা চালানো হত। নওয়াদার পুলিশ সুপার অভিনব ধীমান জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
7
9
পুলিশের দাবি, নওয়াদা জেলায় আগেও একই ধরনের একাধিক সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতিবারই দেখা গিয়েছে, লোভনীয় প্রস্তাব দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে পরে ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। কিছু অভিযুক্ত ধরা পড়লেও, প্রতারণার পদ্ধতি বদলে বদলে চক্রটি আবার মাথাচাড়া দিয়েছে। ‘প্রেগন্যান্সি জব’ বা ‘গর্ভধারণের চাকরি’ নামের এই কৌশল এখনও বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে—বিশেষ করে দ্রুত টাকা আর যৌনতার লোভ যাঁরা সামলাতে পারেন না।
8
9
নওয়াদা সাইবার থানার ইনচার্জ ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ নিশু মল্লিক সাধারণ মানুষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা এমন অস্বাভাবিক, অবাস্তব এবং “অতি লাভজনক” প্রস্তাব কখনও বিশ্বাস করবেন না। কোনও সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন বা ফোন কল পেলেই দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
9
9
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ডিজিটাল দুনিয়ায় লোভই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিলেই, হাস্যকর মনে হওয়া একটি বিজ্ঞাপন মুহূর্তে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে বদলে যেতে পারে।