নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন গোটা পৃথিবী আনন্দে মেতে উঠেছে, তারকারাও একে একে জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা। সেই তালিকায় নাম লিখলেন টলিপাড়ার অন্যতম স্তম্ভ, পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি। দীর্ঘ কয়েক দশকের সিনে-পথচলায় অসংখ্য স্মরণীয় কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয় ও পরিচালনায় সমান দক্ষ তাঁর সহধর্মিণী চূর্ণী গাঙ্গুলিও। তাঁদের ছেলে উজান গাঙ্গুলিও এখন টলিউড পেরিয়ে বলিউডমুখী।

 

বর্ষবরণের আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করে কৌশিক জানালেন তাঁর মনের কথা। শিল্পী হিসেবে লড়াই, টিকে থাকা, এগিয়ে চলার দর্শন এবং নতুন বছরে তাঁর প্রার্থনা।  পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন তিনি তাঁদের পরিবারকে তাঁদের মনোরঞ্জনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। 

 

 

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, বহু আগেই ‘ভিড় জাহাজ’ থেকে নেমে গিয়ে নিজের আলাদা পথ বেছে নিয়েছেন। তবু স্রোতের টান তাঁর রক্তে। তাই প্রিয়জনদের সঙ্গে নিজের ‘নৌকো’ বানিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। প্রিয় মানুষরা দাঁড় টানছেন, আর তিনি দিকনির্দেশ করছেন, এইভাবেই চলবে তাঁদের যাত্রা।
২০২৫ শেষ, সামনে নতুন বছরের নতুন দুই তীর সেখানে গল্প খুঁজতে, গল্প বলতে চান তিনি এবং তাঁর পরিবার। শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন আর দর্শকদের বিনোদনের সুযোগ পেলেই সন্তুষ্ট কৌশিক-চূর্ণী। তাঁদের মতে, এই নৌকো স্বাধীন, স্বতন্ত্র, মৌলিক সময় নামানো সমস্ত ঘাট পেরিয়েই এগোতে চায়।

 

 

কৌশিকের বার্তায় উঠে এল গভীর উপলব্ধিও - "ছোট মানুষের গল্প, উপেক্ষিত চরিত্র, কিংবা কল্পনার অচেনা জগত...এই সবের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠুক সময়ের সামাজিক বার্তা। জীবনী বইয়ে পড়া যায়, কিন্তু জীবনের গল্প পর্দায় অনুভব করা যায়, এটাই সিনেমার শক্তি। তাই তাঁর বিশ্বাস, জোর করে শিল্প জনপ্রিয় করা যায় না; মানুষের আবেগই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। ঠিক তেমনই ইতিহাসও জোর করে লেখা যায় না। নিজের সময়েই নীরবে তৈরি হয় তার নিজস্ব জায়গা।

 

 

 

গ্রাম থেকে শহর, সিনেমার দর্শক যেন আরও জেগে ওঠে, এটাই কামনা তাঁর। নির্মাতাদের দায়িত্ববোধই পারে সেই ঘুম ভাঙাতে এমনটাই বার্তা কৌশিকের। তাই রুচি, শিক্ষা, মেধা আর দায়িত্ববোধকে সঙ্গী করেই কাজ করতে চান তিনি। আর নতুন বছরে তাঁর একটাই প্রার্থনা, দর্শকের ভালবাসা যেন নৌকোর পালে হাওয়া হয়ে থাকে।

 

শেষে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলকে, “শুভ ইংরেজি নববর্ষ।”