সম্প্রতি দিলজিৎ দোসাঞ্জ ব্যক্তিগত উপলদ্ধির কথা ভাগ করে নিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন কাশীর মনিকর্ণিকা ঘাটে তিনি একদিন গভীর রাতে গিয়েছিলেন৷
মণিকর্ণিকা ঘাট উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (কাশী)-তে, গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন এবং পবিত্র শ্মশানঘাট হিসেবে পরিচিত। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলে।
দিলজিৎ জানান, গভীর রাতে তিনি যখন মণিকর্ণিকা ঘাটে বসেছিলেন, তখন একের পর এক চিতা জ্বলছে৷ মানুষ আসছেন যাচ্ছেন৷ অবিরাম চিতার আগুন দেখে দিলজিৎ এর মনে হয়েছিল মানুষের কোনও ক্ষমতাই নেই।
একজন মানুষ যত সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি অর্জন করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সব কিছুই ধুলোয় মিশে যায়৷ নশ্বর জীবনের এই গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির কথা জানানোর পর থেকেই দিলজিতের বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে 'সতলুজ' সরিয়ে দেওয়ার পর অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আমি অন্ধকারকে ভয় করি না"। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তা ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন অবলম্বনে তৈরি এই ছবিটি দীর্ঘ সেন্সর জটিলতার পর ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছিল। তবে মুক্তির মাত্র দু'দিনের মধ্যেই ছবিটি ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে দিলজিৎ ইঙ্গিত দেন, সত্যকে চেপে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, অন্ধকার যতই গভীর হোক, সত্য একদিন না একদিন সামনে আসবেই।তাঁরই মধ্যে মানুষের ক্ষমতা অর্থহীন এই উপলব্ধি কি বিশেষ কোনও ইঙ্গিত?
হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটে দাহ হলে আত্মা জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি (মোক্ষ) লাভ করে। এই কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ জীবনের শেষ সময়ে কাশীতে আসেন।
স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ঘাটের চিতা কখনও সম্পূর্ণ নিভে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে নিরন্তর দাহকার্য চলছে। তাই একে অনেকেই 'অবিরাম জ্বলতে থাকা শ্মশান' বলে থাকেন।
কাশীর অন্যতম প্রাচীন ঘাট মণিকর্ণিকা ঘাটের ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। এটি কাশীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলির একটি এবং হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।















