কানাডার ক্যালগারিতে নিজের লাইভ কনসার্টে একদল মানুষের খলিস্তানি পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সরাসরি ওই গোষ্ঠীকে কনসার্ট স্থল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি। সেই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বিষয়ের সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন।
কানাডার ক্যালগারির আকাশ তখন সুরের মূর্ছনায় মাতাল। কানায় কানায় দর্শকাসনে ভরা। কনসার্টের স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক গলা মিলিয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জের গানে। আলো, সুর আর উন্মাদনার এমন এক সন্ধিক্ষণে হঠাৎই ঘটল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সুরের এই মহোৎসবে হঠাৎই মাথা চাড়া দিয়ে উঠল কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রতীক—খলিস্তানি পতাকা! কিন্তু শিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি। সোজা জানিয়ে দিলেন, তাঁর মঞ্চ কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারের জায়গা নয়।
ক্যালগারির কনসার্টে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন কেবল কানাডায় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কনসার্ট চলাকালীন যখন একদল মানুষ মঞ্চের সামনে খলিস্তানি পতাকা ওড়াতে শুরু করেন, তখন দিলজিৎ প্রকাশ্যে নিজের অস্বস্তির কথা জানান। তিনি দর্শকদের ওই দলটিকে সরাসরি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা বিচ্ছিন্নতাবাদী উপাদানের সঙ্গে নিজের শিল্পকে জড়াতে দেবেন না।
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank" rel="noopener">A post shared by ikswaal (@_ikswaal)
দিলজিতের এই অনমনীয় মনোভাব উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন তৈরি করে। তবে ঠিক কেন এই বিতর্ক?
গত কয়েক দিন ধরে দিলজিৎ দোসাঞ্জ একটি বিশেষ অংশের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কারণ, তিনি প্রবীণ অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন। বচ্চনের পুরনো মন্তব্যের (যা আটের দশকের ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর পর দেওয়া হয়েছিল) জের ধরে আজও কিছু মানুষ তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান।এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন দিলজিৎ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, "আমার কাজ কোনও চ্যারিটি বা দান-ধ্যান করা নয়। কিন্তু আমি যে মঞ্চেই যাই না কেন, পাঞ্জাবের কথাই বলি। জাতীয় স্তরের গণমাধ্যম পাঞ্জাবকে নিয়ে কথা বলে না, তাই আমি সব জায়গায় পাঞ্জাবের সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরি।"
দিলজিৎ তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পেছনের আসল উদ্দেশ্যটিও দর্শকদের সামনে একেবারে স্পষ্ট করেন। সম্প্রতি ‘দ্য টুনাইট শো স্টার্টিং জিমি ফ্যালন’-এ তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারও উচিত জবাব দেন। তিনি বলেন, "কোনও সিনেমা বা গানের প্রচার করতে যাইনি। আমি ফ্যালনের শো-তে গিয়েছিলাম পাঞ্জাবের সমস্যাগুলোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে। "ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ: ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি ‘গুরু নানক জাহাজ’ এবং ‘কোমাগাতা মারু’র মতো ঐতিহাসিক ঘটনার কথা তুলে ধরেছিলেন, যেখানে ভারতীয় অভিবাসীরা কানাডায় চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, "টেলিভিশনে আমি কার সঙ্গে বসে কথা বলছি তা নিয়েও যদি আপনাদের সমস্যা থাকে, তবে আপনারা আপনাদের ইচ্ছামতো যত খুশি পতাকা ওড়াতে পারেন।"
দিলজিতের এই সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক যাত্রাকে রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি ও যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর শিল্প কোনও নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ নয়। ক্যালগারির এই ঘটনা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও, দিলজিতের এই স্পষ্টভাষী রূপ তাঁর ভক্তদের কাছে তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।