বিনোদন জগতে সম্পর্কের সমীকরণ কখন যে কোন দিকে মোড় নেয়, তা বোঝা সত্যিই দায়। বলিপাড়ার অলিতে গলিতে এখন নতুন এক চর্চা তুঙ্গে— কে এই ‘ধুরন্ধর’ উজের বালুচ? আর কেনই বা অভিনেত্রী অহনা কুমরার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে এত গুঞ্জন? সম্প্রতি অহনার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এই আগুনেই যেন ঘি ঢেলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত দানিশ পান্ডোরের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে। দানিশ এখন ‘ধুরন্ধর'-এর 'উজের বালুচ’ হিসেবে দর্শকের কাছে পরিচিত। তাঁর জন্মদিনে অহনা কুমরা নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে নিজেদের ঘনিষ্ঠ এবং মিষ্টি কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। ছবিতে দু'জনকে বেশ খোশমেজাজে দেখা যাচ্ছে। তবে কেবল ছবিই নয়, ছবির ক্যাপশনটি ছিল আরও বেশি ইঙ্গিতপূর্ণ। অহনা তাঁকে ‘সবচেয়ে কাছের মানুষ’ এবং ‘অ্যাডভেঞ্চার পার্টনার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্যস, নেটিজেনদের বুঝতে বাকি থাকেনি যে 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!'
'ধুরন্ধর’-এ তাঁর চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি নেট দুনিয়ায় বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। অহনা কুমরা, 'লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা' বা 'মার্দানি ২' এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন, তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই কিছুটা আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু দানিশের ক্ষেত্রে তাঁর এই রাখঢাকহীন বহিঃপ্রকাশ নতুন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই জুটি বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তা সে জিমের সেশন হোক বা কোনও অনুষ্ঠানে দু'জনের রসায়ন চোখে পড়ার মতো। জন্মদিনের এই পোস্টে অহনা লিখেছেন, কীভাবে দানিশ তাঁর জীবনে ইতিবাচকতা নিয়ে এসেছেন। এমনকী দু'জনকে একে অপরের পরিবারের সঙ্গেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠ সূত্রের।
যদিও এই সম্পর্ক নিয়ে অহনা বা দানিশ কেউই সরাসরি মুখ খোলেননি, তবে ডিজিটাল যুগে নিরবতাই অনেক সময় সম্মতির লক্ষণ হিসেবে কাজ করে। নেটিজেনদের একাংশ তো ইতিমধ্যেই অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
প্রসঙ্গত, 'ধুরন্ধর'-এ বেশ কিছু দৃশ্য এবং সংলাপে 'বালোচ' বা বালোচিস্তান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল সরকার। সেই নির্দেশ মেনে বিতর্কিত অংশগুলো ছেঁটে ফেলে ১ জানুয়ারি থেকেই প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির নতুন সংস্করণ প্রদর্শিত হয়েছে।
সূত্রের খবর, ছবিটিতে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সমস্যা এবং আঞ্চলিক রাজনীতি তুলে ধরতে গিয়ে বালুচিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছিল। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় ভারত সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই ধরণের সংলাপ বা দৃশ্য জনমানসে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জনস্বার্থে এবং জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে ওই নির্দিষ্ট শব্দ ও দৃশ্যগুলি 'মিউট' বা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ছবির নির্মাতা ও প্রযোজক সংস্থা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
