১০০০ কোটির ক্লাব জয় করলেও ‘ধুরন্ধর ২’ কি বাস্তবকে বিকৃত করছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির সাম্প্রতিক ভিডিও অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিল। আদিত্য ধরের এই পিরিয়ড স্পাই থ্রিলারকে ‘বুদ্ধিহীন কন্টেন্ট’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ছবিটির ডিসক্লেইমার বা বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ধ্রুব রাঠির দাবি, ছবির শুরুতে ‘বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত’ লেখার বদলে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ড থেকে অনুপ্রাণিত’ লেখা উচিত ছিল। তাঁর মতে, ছবিতে নোটবন্দি বা ডিমোনেটাইজেশন-এর মতো বিষয়কে যেভাবে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তা আসলে সাধারণ মানুষের কষ্টের সঙ্গে উপহাস। আরবিআই -এর রিপোর্ট এবং গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ধ্রুব মনে করিয়ে দেন যে, বাস্তবে নোটবন্দির সময় এটিএম-এর লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা এই ছবিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে ধ্রুব সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে। তাঁর প্রশ্ন, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দেশবিরোধী হিসেবে দেখিয়ে এবং সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশেল ঘটিয়ে কি এ ধরনের ছবি বানানো আইনত বৈধ? তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আজ যদি এই পদ্ধতিকে ছাড় দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য যে কেউ একই পদ্ধতি ব্যবহার করে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধেও ছবি বানাতে পারে।
উল্লেখ্য, রণবীর সিং অভিনীত 'ধুরন্ধর ২' ছবিতে হামজা আলি মাজারি ওরফে জসকিরাত সিং রঙ্গির করাচি আন্ডারওয়ার্ল্ডে উত্থানের গল্প দেখানো হয়েছে। রণবীরের পাশাপাশি এখানে অক্ষয় খান্না, আর মাধবন এবং সঞ্জয় দত্তের মতো তারকারা রয়েছেন। বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে ছবিটির বাণিজ্যিক জয়জয়কার অব্যাহত।
তবে এসব সত্বেও ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে মাতামাতি এখন তুঙ্গে। তবে বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে সেই উত্তাপ যে স্কুলের পরীক্ষার খাতায় এসে ঠেকবে, তা ছিল কল্পনার অতীত। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জনৈক ইউজার একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক কমার্স শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের জন্য তৈরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘ধুরন্ধর’-এর চরিত্রদের ব্যবহার করেছেন।
ভাইরাল হওয়া সেই প্রশ্নপত্রে দেখা যাচ্ছে, পার্টনারশিপ ফার্মের লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (Profit-sharing ratio) বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে জামিল জামালি, এসপি চৌধুরী আসলাম এবং ইয়ালিনা জামালির নাম। মজার বিষয় হল, প্রশ্নের একটি অংশে সরাসরি ছবির প্রেক্ষাপট টেনে লেখা হয়েছে, “২০২৫ সালের ৫ই ডিসেম্বর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।” ব্যালেন্স শিট থেকে শুরু করে রিটায়ারমেন্ট— সব জায়গাতেই ধুরন্ধর-এর ছোঁয়া দেখে ছাত্ররা যেমন তাজ্জব, তেমনই মজেছেন নেটিজেনরাও।
&t=4s
















