প্রায় এক মাস ধরে টানা কখনও বালুরঘাট, কখনও দিনাজপুর তো কখনও কলকাতার কোনও প্রান্ত, তো কখনও অন্য কোথাও ছুটে বেড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করতে। এই গরমে প্রচার করতে গিয়ে অসুস্থও হয়ে পড়েন। অবশেষে নির্বাচনী প্রচার শেষ হতেই ছবির কাজে মন দিলেন দেব। 

ভোটের কাজ মিটিয়েই 'দেশু ৭' -এ মন দিলেন দেব। দিলেন চমকপ্রদ আপডেট। এদিন ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে একটি ছবি পোস্ট করেন দেব। সেখানে তাঁকে জিমের পোশাকে দেখা যাচ্ছে। মিরর সেলফি তুলেছেন শরীর চর্চার শেষে। ছবিতে ক্যাপশনে অভিনেতা লেখেন, 'ব্যাক টু সিনেমা। আমার পরের ছবি দেশু ৭ -এর জন্য তৈরি হচ্ছি।' 

প্রসঙ্গত চলতি বছরের পুজোর সময় মুক্তি পাবে 'দেশু ৭'। মুখ্য ভূমিকায় থাকবেন দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এই ছবিতে কেবল অভিনয় বা প্রযোজনা করবেন না দেব। তিনিই গল্প, চিত্রনাট্য লিখেছেন। পরিচালনাও তিনিই করবেন। 'ধূমকেতু' ছবিটির সাফল্যের পর এই ছবির হাত ধরে যেমন একদিকে ফিরছে দেব, এবং শুভশ্রীর আইকনিক জুটি, তেমনই অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে আবারও কাজে ফেরালেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে গিয়েও 'দেশু ৭' ছবির গোল্ডেন টিকিটে সই বিলিয়ে এসেছেন দেব। সবটা মিলিয়েই এই ছবি নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, দেব কিছুদিন আগেই 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা' ছবিটির শুটিং শেষ করেছেন। উত্তরবঙ্গের করিমূল হকের জীবনী অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ছবিটি। দেবের বিপরীতে এখানে থাকবেন রুক্মিণী মৈত্র। দোলের সময়ই র‍্যাপ আপ হয় ছবিটির। 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা' ছবিটি চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের সময় মুক্তি পাবে বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও সদ্যই তাঁর ছবি অভিমান এর শুটিং শেষ করেছেন। এবার তাঁরা হাত দেবেন তাঁদের পুজোর ছবির কাজে। 

দেবের হাতে 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা' এবং 'দেশু ৭' ছাড়াও 'খাদান ২', 'টনিক ২' ছবির মতো একাধিক কাজ আছে। চলতি বছরের বড়দিনে আসতে পারে 'টনিক ২'। অভিজিৎ সেনের পরিচালনায় আসবে ছবিটি। তবে সেখানে আবারও দেব এবং পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুটি দেখা যাবে কিনা সেই উত্তর সময় দেবে। 

গত শুক্রবার বেহালায় রত্না চট্টোপাধ্যায়ের প্রচারে গিয়েছিলেন দেব। সেই সময়ই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তাঁকে তৎক্ষণাৎ প্রচার মঞ্চ থেকে সরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। রবিবার ফের প্রচারে নামার আগে দেব ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, 'শরীরটা খারাপ ছিল কাল। মাইগ্রেন, হিটস্ট্রোক..., ভীষণ শরীর খারাপ ছিল। আজ একটু তুলনায় ভাল আছি। ধন্যবাদ তোমাদের সবাইকে কাল থেকে এতটা ভালবাসা দেওয়ার জন্য।' এই গরমে স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল না রেখে কেন তিনি এভাবে প্রচারে যাচ্ছেন সেটা জানিয়ে দেব বলেন, 'কেন এত পরিশ্রম করছি? দু'টো কারণ। এক আমি মন থেকে চাই, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য শপথ নিক। আর হচ্ছে, অজস্র মানুষ যাচ্ছেন দেখার জন্য, অটোগ্রাফ পাওয়ার জন্য। তাঁদের আবেগ, তাঁদের কান্না, চিৎকার কোথাও গিয়ে আমায় যেন মোটিভেট করে। শরীর খারাপ উপেক্ষা করে কাজ করার সাহস দেয়। আর মাত্র দু'দিন বাকি। আজকের দিন বাদ দিলে, কাল আর পরশু, তারপর প্রচার শেষ।'