কিছু দিন আগেই দেব জানান তিনি টেকনিশিয়ানদের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন যাতে তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করানোর ব্যবস্থা করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আবেদনে সাড়া দেন। ১৪ মার্চ টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে চলছে স্বাস্থ্য সাথী ক্যাম্প। সেখান থেকে কী বার্তা দিলেন দেব? 

এদিন স্বাস্থ্য সাথী ক্যাম্পে টেকনিশিয়ানদের ভিড় উপচে পড়ে। এত ভাল সাড়া পেয়ে এদিন সংবাদমাধ্যমকে দেব বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ৭ তারিখে ওঁকে চিঠিটা পাঠিয়েছিলাম, উনি ধর্নাতে বসেছিলেন। ধর্না যেদিন শেষ হল, যে কাজগুলো পেন্ডিং ছিল, তার মধ্যে এটাকে অনুমোদন করেন তিনি। হাজার হাজার মানুষ আজ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে পরিষেবা পেতে চলেছে। কতটা দরকার এই কার্ড টেকনিশিয়ানদের জন্য সেটা বলে বোঝানো যাবে না। আমি খুশি। ওঁরা আমার কাছে আবেদন করেছিল, আর আমি সেই অনুরোধ রাখতে পেরেছি। এর পুরো কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রীর, উনি গোটা টিম পাঠিয়েছেন। একদিনের মধ্যে সবটা হবে না, আরও হয়তো একদিন লাগবে।" 

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের বদলে অন্য বীমা করানোর কথা উঠেছিল মাঝে। পারিশ্রমিকের কিছুটা অঙ্ক কেটে টেকনিশিয়ানদের জন্য সেই বীমা করানোর কথা হয়। এই বিষয়ে এদিন দেবের জবাব, "স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ভাল নয়, অন্য প্রকল্প ভাল, এই কথা স্বরূপ বিশ্বাস বলে থাকলে, এর উত্তর উনি বা অরূপ বিশ্বাস ভাল দিতে পারবেন। অরূপদা রাজ্যের মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে গ্রামে গ্রামে রাজ্য সরকারের হয়ে প্রচার করেছেন। ওঁর ভাই যদি বলেন স্বাস্থ্য সাথী বিমা ভাল না, তাহলে আমার মনে হয় উত্তর দাদার দেওয়া উচিত। কারণ এতে মুখ্যমন্ত্রীকে সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ভাল নয়।" তাঁর আরও সংযোজন, "স্বরূপ বিশ্বাসের স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের প্রয়োজন নেই, ওঁর অর্থ আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের দরকার। সমর্থক হওয়া ভাল, অন্ধ সমর্থক হওয়া খারাপ। আমার কাছে অনেক টেকনিশিয়ান এসেছিলেন, জানিয়েছিলেন তাঁদের কাছে কোনও সরকারি বীমা নেই, আমি সেই আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছিলাম। আমার লড়াই এটাই যাতে মানুষ ভাল থাকে, টেকনিশিয়ান ভাল থাকে।" 

এদিনের এই ক্যাম্পে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কোয়েল মল্লিক, সুদেষ্ণা রায়, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় , জিতেরও আসার কথা ছিল। তাঁরা শহরে নেই বলে যোগ দিতে পারেননি। 

অনেকের মনে ভুল ধারণা রয়েছে যে স্বাস্থ্য সাথী করালে, অন্য বীমার সুবিধা পাওয়া যাবে না। সেই ভুল ভাঙিয়ে দেব বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবের নাম শুনে এখানে টিম পাঠাননি, টেকনিশিয়ান শব্দটা শুনে পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যে হেলথ ক্যাম্প হচ্ছে, কেন সেটার বিরোধিতা করা হচ্ছে? স্বাস্থ্য সাথী করালে অন্য বীমা করাতে পারবেন না, বা বাতিল হয়ে যাবে সেটা, এটা ভুল। আপনাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে।" 

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে পরিচালক সুদেষ্ণা রায় বলেন, "খবরটা শুনেই আমার মনে হয়, অবশেষে আমাদের কথা শুনেছে। গত কয়েক বছর আমরা মেডিক্লেম পাইনি, তাতে আমাদের অসুবিধা হয়েছে। দেবের উদ্যোগকে কৃতজ্ঞতা জানাব। এবং কৃতজ্ঞতা জানাব মুখ্যমন্ত্রীকে। আগেও যে বীমা পেতাম তার সমস্ত দায়ভার বহন করত সরকার।" প্রায় একই সুর শোনা গেল শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের গলায়। বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, "দেব একটা উদ্যোগ নিয়েছে। সমস্ত শিল্পী, কলাকুশলীদের জন্য এটা হচ্ছে।"