বাংলায় ওয়েব সিরিজের ঘরানা এখন প্রতি পদে বদলাচ্ছে। দর্শকের মনে জায়গা করে নিচ্ছে একে একে আধুনিক ভাবনার কাজ। সেরকমই এক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নিয়ে আসছেন পরিচালক জয়দীপ রায়চৌধুরী। শুধু পরিচালনায় নয়, তাঁর ভাবনায় ও লেখনিতে ফুটে উঠেছে 'বিভ্রাট'। এই সিরিজের সহ প্রযোজনায় রয়েছেন জয়দীপ। সঙ্গে রয়েছে অনন্তকৃতি ফিল্মস ও অর্ণিকা প্রোডাকশনস। 

সিরিজের মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন কিঞ্জল নন্দ, টুম্পা ঘোষ ও মনোজ ওঝা। এছাড়াও রয়েছেন টলিপাড়ার আরও পরিচিত মুখ। 'বিভ্রাট'-এর গল্প আদ্যপান্ত একটা সায়েন্স-ফিকশন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। যেখানে প্রযুক্তির আগ্রাসন মানুষের একদম ব্যক্তিগত অনুভূতির স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। উন্নত নিউরোসায়েন্স এবং অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সমাজে এমন কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করে যা প্রথম দেখায় একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হয়। একটি রহস্যজনক এনকাউন্টার কিলিং যার পিছনে কোনও যুক্তি নেই, ঐতিহ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদ্ভুত সব চিকিৎসা পদ্ধতি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁদের অস্তিত্বের ছাপ থেকে যাওয়া কিংবা রাতারাতি খবরের মোড় বদলে যাওয়া—এই সবকিছুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ষড়যন্ত্র।


গল্পের চরিত্রগুলো যখন এই জট খুলতে শুরু করে, তখনই আসে আসল টুইস্ট। তারা যতই রহস্যের গভীরে যায়, ততই বুঝতে পারে যে তাদের চেনা জগতটাই আসলে ঠুনকো। সময়, সত্যি কিংবা স্মৃতি—কোনও কিছুই আর আগের মতো বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। চারপাশের পরিচিত বাস্তবতা এক অদ্ভুত অস্থিরতায় রূপ নেয়। এই সিরিজটি কেবল প্রযুক্তির হঠাৎ করে ‘ভিলেন’ হয়ে ওঠার গল্প নয়। বরং এটি তুলে ধরে কীভাবে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ আর নৈতিকতার আপস একটি সমাজকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়। মানুষ ঠিক কতটা সহজে একটি সাজানো বা কৃত্রিম বাস্তবতাকে নিজের অজান্তেই আপন করে নেয় এবং সেই ব্যবস্থার ফাটলগুলো চোখে না পড়া পর্যন্ত সবকিছু কতটা স্বাভাবিক মনে হয়, সেই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনই 'বিভ্রাট'-এর মূল ভিত্তি।


জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই কলকাতায় শুটিং শেষ হয়েছে এই সিরিজের। এই মুহূর্তে প্রোডাকশন পরবর্তী কাজ চলছে 'বিভ্রাট'-এর। সাতটি পর্বে মুক্তি পাবে এই সিরিজটি। চলতি বছরেই প্রথম সারির একটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে চলেছে এই সিরিজটি।