মিষ্টি প্রেমের গল্প নিয়ে আসছেন বনি সেনগুপ্ত। অংশুমান প্রত্যুষের পরিচালনায় এবার তিনি জুটি বাঁধছেন অভিনেত্রী শুভাঙ্কি ধরের সঙ্গে। ছবির নাম 'বোসডিকে'। গল্পে বনির চরিত্রের নাম 'কিংশুক বসু'। সে একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। তার ফ্যান ফলোয়িং এতটাই বেশি যে তা তারকাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তার একটা সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলিং গ্রুপ আছে, যারা কন্টেন্ট শুট করা থেকে শুরু করে পোস্ট এবং মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি দিকে খেয়াল রাখে। তবে অনেক সময় তাঁর টিমের কিছু কনটেন্ট বা কাজকর্মকে মেনে নিতে একমত হন না।

 

এরপর গল্পের মোড়ে এক কলেজের একটি অনুষ্ঠানে, তার দিয়ার সঙ্গে দেখা হয়। দিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি কিংশুকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায়। কিংশুক ও দিয়া তারপর একসঙ্গে কনটেন্ট তৈরি করে। যা রীতিমতো ভাইরাল ভাইরাল হয় যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৈরি হয় তাদের চ্যানেল 'বোসডিকে'। এভাবেই এগোচ্ছিল গল্প। কিন্তু এরপর আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়। কীভাবে দু'জন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, সেটাই দেখার যাবে ছবির গল্পে। ট্যাপ্শন মিডিয়া ও কুনাল সাহা প্রযোজিত এই ছবি তাড়াতাড়িই শুটিং ফ্লোরে যেতে চলেছে।

বনি ও শুভাঙ্কি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শঙ্কর চক্রবর্তী, মানসী সিনহা, সৈকত দে। ও। রানা বসু ঠাকুর।

 

পরিচালকের কথায়, "সত্যি বলতে, এই ঘরানার চিত্রনাট্য একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি আগে কখনও চেষ্টা করিনি। তবে এই বিষয় এবং ঘরানাটি অনেকদিন ধরেই আমার মনে ছিল। তাই এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই খুব উচ্ছ্বসিত। আমাদের একটি সেলিব্রিটি ক্রিকেট টিম আছে এবং আমরা সারা বছর একসঙ্গে খেলি। আমাদের দলে অনেক সফল ও জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারও রয়েছেন। গত কয়েক বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের বেড়ে ওঠা দেখেছি, তাদের জীবন, সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জ কাছ থেকে দেখেছি। তাদের মানসিকতা ভীষণ আলাদা, যা আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করেছে। সেই আকর্ষণই সম্ভবত আমাকে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়ে চিত্রনাট্য লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে।"

 

তিনি আরও বলেন, "এই ছবির জন্য আমরা আউটডোরে শুট করছি না, আমাদের শুটিং কলকাতাতেই হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত, দর্শকরাও ছবিটি দেখে সমানভাবে উপভোগ করবেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; বিনোদন, আবেগ এবং মনে রাখার মতো এক অভিজ্ঞতা উপহার দেব।"

 

শুভাঙ্কির কথায়, "ছবির বিষয়বস্তু একটি বেশ নতুনরকমের। আজকের জেন জি প্রজন্মকে কেন্দ্র করে তৈরি, এক অসাধারণ প্রেম ও নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের গল্প। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, এটি আমাদের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক এবং তাই বিষয়টি আমার কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ লেগেছে। বনি সেনগুপ্ত এবং পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষের সঙ্গে কাজ করা নিঃসন্দেহে আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। একজন নবাগতা হিসেবে এটি আমার কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা, 

 

বনি বলেন, "এই ছবিতে দেখানো হয়েছে আধুনিক সমাজে ছেলেমেয়ের বন্ধুত্বকে নিয়ে মানুষের প্রচলিত ধারণা—যেখানে মনে করা হয়, একজন ছেলে ও একজন মেয়ে বন্ধু হলেই তাদের মধ্যে অন্য কোনও সমীকরণ আছে। এই ছবির লক্ষ্য সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা এবং দেখানো যে একটি ছেলে ও মেয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পাশাপাশি ছবিতে একটি গভীর বার্তাও রয়েছে, যা আমরা পরে প্রকাশ করব। আমি এই ছবিতে ‘হ্যাঁ’ বলার প্রধান কারণ ছিল আমাদের পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি এবং নানা ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই কাজটা করার জন্য অপেক্ষায় আছি।"