নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই একরাশ নস্টালজিয়া। আর সেই নস্টালজিয়ার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মনসুর খান পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’। আমির খান অভিনীত এই ছবির গান থেকে শুরু করে দৃশ্য, আজও দর্শকের মনে অমলিন। তবে সব ছাপিয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে একটি বিশেষ দৃশ্য,লাল স্কার্ট পরে পূজা বেদীর সেই ‘মেরিলিন মনরো’ মুহূর্ত। সম্প্রতি সেই দৃশ্য তৈরির নেপথ্যের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ছবির কস্টিউম ডিজাইনার অবিনাশ ত্রিপাঠী।

সেই সময় পূজা বেদীর ওই 'বোল্ড' অবতার রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রক্ষণশীল সমাজে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির কস্টিউম ডিজাইনার জানান, সেই বিশেষ দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা মোটেও সহজ ছিল না।

অবিনাশ ত্রিপাঠী তাঁর বলিউডে আসার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন ওই সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান যে ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ ছিল বলিউডে তাঁর প্রথম কাজ এবং চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি হাতে রঙ করা টি-শার্ট বিক্রি করতেন। একদিন মনসুর খানের অফিসে একটি টি-শার্ট পৌঁছে দিতে গেলে নির্মাতা তাঁর কাজে এতটাই মুগ্ধ হন যে তাঁকে ছবির পোশাক ডিজাইনের দায়িত্ব দিয়ে দেন।

সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি বলেন, “একদিন আমি মনসুর খানের অফিসে কিছু টি-শার্ট পৌঁছে দিতে গিয়েছিলাম এবং তাঁর সেক্রেটারি আমাকে ভেতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি ভেবেছিলাম আমি তো তাঁর সঙ্গে আগে কখনও দেখা করিনি, তবে তিনি কেন আমার সঙ্গে দেখা করতে চান? আমি ভয়ে ভয়ে ভিতরে গেলাম। তিনি ভেবেছিলেন যে আমি জো জিতা ওহি সিকান্দারের অডিশন দিতে এসেছি। কিন্তু আমি তাঁকে বললাম যে আমি সেখানে টি-শার্ট পৌঁছে দিতে এসেছি। তিনি তখন জিজ্ঞেস করলেন আমি নিজে ওই টি-শার্টগুলো বানিয়েছি কি না, এবং আমি হ্যাঁ বললাম। তিনি আমার টি-শার্ট এবং আমার স্টাইল সেন্স খুব পছন্দ করেছিলেন। তিনি আমাকে ছবির জন্য পোশাক তৈরি করতে বলেন। এটি আমার জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে একটি খুব আকস্মিক শুরু ছিল।”

মেরিলিন মনরো-র সেই বিখ্যাত দৃশ্যটি পুনর্নির্মাণের জন্য নির্মাতারা কীভাবে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, তা নিয়ে তিনি বলেন, “মনসুর মেরিলিন মনরোর স্কার্ট ওড়ার দৃশ্যটি নতুন করে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আমরা ব্লোয়ার দিয়ে স্কার্টটি ওড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু স্কার্টটি উড়ছিল না। আমি হালকা কাপড় দিয়ে পোশাকটি আবার তৈরি করলাম, কিন্তু তবুও সেটি উড়ছিল না। তারপর আমরা একটি বড় ফ্যান নিয়ে এলাম যা সাধারণত সেটে ধুলোঝড় তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। ওই পাখাটা খুব জোরে হাওয়া দিচ্ছিল, আমি সঙ্গে সঙ্গে তাদের বললাম দ্রুত শটটি ক্যামেরাবন্দি করতে। যখন সিনেমাটি মুক্তি পায়, তখন এটি মুহূর্তেই আইকনিক হয়ে ওঠে।” 

পূজা বেদী সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন যে, “পূজা বেদী খুব সাবলীল অভিনেত্রী। এমনকী সেই সময়েও তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল খুব উন্নত এবং তিনি কেবল কাজের দিকেই মনোনিবেশ করতেন।”