বলিউডের অন্যতম আইকনিক সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ নিয়ে সম্প্রতি বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল, যার মূলে ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক অমাল মালিক। অমাল দাবি করেছিলেন, তাঁর বাবা ডাব্বু মালিক এই সিনেমার নায়ক হিসেবে শুটিং শুরু করেছিলেন কিন্তু তাঁকে না জানিয়েই পরে সলমন খানকে নেওয়া হয়। এবার এই জল্পনায় জল ঢেলে সরাসরি মুখ খুললেন খোদ ডাব্বু মালিক।

 

বলিউডের সুপারহিট সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ মুক্তি পাওয়ার বহু বছর পরও এই ছবির কাস্টিং নিয়ে নানা অজানা তথ্য সামনে আসে। সম্প্রতি সঙ্গীত পরিচালক অমাল মালিক দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বাবা ডাব্বু মালিককে নাকি এই ছবির নায়ক হিসেবে ভাবা হয়েছিল এবং তিনি শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু এবার অমালের সেই দাবিকে ভুল বলে প্রমাণ করলেন ডাব্বু মালিক নিজেই। একটি সাক্ষাৎকারে ডাব্বু মালিক স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’-র জন্য অভিনয় করেননি। তাঁর কথায়, “ছবিটির নাম ছিল ‘সাওয়ান ঝুম উঠা’। আমি ওই ছবির জন্যই কাজ করছিলাম, ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ নয়। এক বছর পরিশ্রম করার পর জানতে পারি যে সেই ছবিটি আর তৈরি হচ্ছে না।”তিনি আরও জানান, ঘটনাক্রমে একদিন রাজশ্রী প্রোডাকশনের অফিসে গিয়ে তিনি পোস্টারে প্রথমবার সলমন খান ও ভাগ্যশ্রীকে দেখেন। অর্থাৎ, যে ছবির শুটিং তিনি করেছিলেন, সেটি অন্য একটি প্রজেক্ট ছিল যা পরে বাতিল হয়ে যায়।

 

ডাব্বু মালিকের মতে, ‘সাওয়ান ঝুম উঠা’ এবং ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’—দু'টি ছবিই রাজশ্রী প্রোডাকশনের ছিল এবং দুটির গল্পের মেজাজ বা ‘ভাইব’ বেশ কাছাকাছি ছিল। ডাব্বু মালিক বলেন, “এই কারণেই সম্ভবত বাড়ির আলোচনায় অমাল হয়তো কোনওভাবে দুটির মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছে। পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমেই এই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যা অমাল হয়তো অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে।” তবে তাঁর আশা, এই স্পষ্টীকরণের পর বিতর্কটি আর এগোবে না।

 

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমাল মালিক দাবি করেছিলেন, “আমার বাবা প্রথম দুটি শিডিউল শুট করেছিলেন। সূরজ বজরাতিয়ার বাবা তাঁকে বলেছিলেন শুটিং শুরু করতে। বাবা যখন রাজশ্রী অফিসে শুটিংয়ের জন্য যেতেন, তখন তিনি সলমন খানকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখেছিলেন। নিরাপত্তিরক্ষীকে জিজ্ঞেস করতেই জানতে পারেন যে ওই ছেলেটিই এই সিনেমার নতুন নায়ক। বাবা তখন জানতেন না যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

 

 

১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ যে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক, তা বলাই বাহুল্য। সূরজ বজরাতিয়া পরিচালিত এই ছবিই রাতারাতি সলমন খান ও ভাগ্যশ্রীকে তারকা বানিয়ে দিয়েছিল। আটের দশকের সেই রোমান্টিক ড্রামা আজও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। 

 

ডাব্বু মালিকের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, পুরো বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সেই বিভ্রান্তি এখন অতীত।